বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল : প্রধানমন্ত্রী

PM--720170208062411

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের সর্বজনীন মডেল। দ্রুত সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বব্যাংক মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন করছে।

বুধবার নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংকটের জাল ছিন্ন করে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে।

তিনি বলেন, ‘রূপকল্প ২০২১’-কে সামনে রেখে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২১)’ প্রণয়ন করে।

তিনি বলেন, প্রেক্ষিত পরিকল্পনার লক্ষ্যসমূহ অর্জনে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫) বাস্তবায়িত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন অগ্রাধিকারভত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা সরকারের উন্নয়ন বাজেট বা বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেট ছিলো মাত্র ২৪ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ কোটি ১০ হাজার ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ১০-এ নেমে এসেছে, একই সময়ে শিশু মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ২৯ জন এবং পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে ৩৬ জনে নেমে এসেছে, যা ২০১১ সালে ছিল ৪৪ জনে ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে এ হার ১৭০ জনে নেমে এসেছে, যা ২০১১ সালে ২০৯ জনে ছিল। দেশে জনগণের গড় আয়ু বেড়ে ৭০ দশমিক ৯ বছর হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮ হাজার ২শ’ ই-পোস্ট অফিস থেকে জনগণকে ২শ’ ধরনের ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন ১৩ কোটির বেশি মোবাইল সীম ব্যবহার করা হচ্ছে। ইন্টারনেট গ্রাহক প্রায় ৬ কোটি।