কোন বিল-জলাশয় নয়, এটি পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র

Pabna-Town-rain

পাবনায় ড্রেনেস ব্যবস্থা পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ঘাট ডুবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার অনেক বাসিন্দাই এখন ছোট নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে যাতায়াত করছে। জলাবদ্ধতা দূরকরণে সরকারি কোন বরাদ্দ নেই উল্লেখ করে পৌর কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়িয়ে চলছে।

বৃহস্পতিবার ও বুধবার দুই দিনের টানা বর্ষণে পাবনা শহরের নিউমার্কেট, পাবনা কলেজ গলি, আওরঙ্গজেব সড়ক, প্রেসক্লাব সড়ক. দিলালপুর, কফিল উদ্দিন পাড়া, শান্তিনগর, বেলতলা সড়ক, বড় বাজার, দই বাজার মোড় এবং শালগাড়িয়া মহল্লায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শহরের নিচু এলাকায় পানিবন্দি হয়ে চরম দূর্ভোগে রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক হাজার মানুষ। এসব এলাকা কোন বিল-জলাশয় নাকি কোনো শহরের প্রাণকেন্দ্র সেটা বোঝা মুশকিল। এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে দেখা দিয়েছে নানা পানিবাহিত রোগ। অনেক এলাকাতে চাপকল ডুবে যাওয়াতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। গেল কয়েক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোন মাথা ব্যাথা নেই।

পাবনা শহরের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে। এ ছাড়াও ড্রেনগুলোর মুখ ইছামতী নদীতে ছিল। বর্তমানে ইছামতি নদী দখল আর ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নালার মুখগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত শহরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভাল না হওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে। এতে পৌর এলাকার অধিকাংশ সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা থাকছে।

গেল দুই দিনের প্রবল বর্ষণে পাবনা শহরের মধ্য শহরের বড়বাজার, নিউমার্কেট, সোনাপট্রি, লোহপট্রিসহ শালগাড়িয়া, কালাচাঁদপাড়া, মাঠপাড়া, যুগিপাড়া, রাধানগর, চক ছাতিয়ানি, সরদার পাড়া, দোহার পাড়া, রাঘবপুর, মাসুম বাজারসহ ১৫টি ওয়ার্ডের ১০টি ওয়ার্ড এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে শহরের শালগাড়িয়া মহল্লাার ৩টি ওয়ার্ড এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় অনেকেই ছোট নৌকা ও কলাগাছের ভেলা করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শহরের নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী সাজিদ সুজন বলেন, বর্ষার মৌসুম এলেই আমাদের চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই আওরঙ্গজেব সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতারা আসে না। ফলে আমাদের বেচাকেনাও কম হয়। নিউ মার্কেটের সামনের রাস্তাটি পিচঢালা পথ না মাটির রাস্তা বুঝা মুশকিল। অথচ পৌর মেয়রের কোন মাথা ব্যাথা নেই। তিনি প্রতি বছরে শুধু হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করার কাজটি করছেন। নাগরিক সুযোগ সুবিধার বিষয়টি যেন তার মাথায় নেই।

নিউ মার্কেট কসমেটিক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক আনন্দ সরকার বলেন, নিউ মার্কেটের সামনের রাস্তায় হাটু পানি থাকলে আমরা ক্রেতা পাব কোথায়। আমাদের কথা কেউ ভাবছেন না। এই জলাবদ্ধতার কারনে গেল ঈদেও ভাল ব্যবসা হয়নি বলে দাবী করেন তিনি।

শিবরামপুর মহল্লার ব্যবসায়ী আমিনুল হক বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা-ঘাট ডুবে যায়। আমরা আসলে শহরে না গ্রামে বাস করি ঠিক বুঝতে পারি না। এর চাইতে গ্রামই অনেক ভাল। চলাচল করতে অনেক কষ্ট করতে হয়।

শালগারিয়া মহল্লার আইনজীবী জুলফিকার আলী বলেন, জলাবন্ধতার জন্যে আমরা এলাকার লোকজন একাধিকবার মেয়রের কাছে গেলেও মেয়র কোন সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারেনি। পৌর এলাকার রাস্তা ও ড্রেনগুলো অপরিকল্পিত ভাবে নির্মান করার কারনেই এমনটি হচ্ছে। ছোট শালগাড়িয়া মহল্লার অনেকেই এই বর্ষা মৌসুমের প্রায় ৬ মাস জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করেন। যেন তাদের দেখার কেউ নেই। তাদের দেখলে মনে হয় প্রথম শ্রেণীর পৌর শহরের বদলে কোন গ্রামে বসবাস করছেন।

পাবনা শিল্প ও বনিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব-উল আলম মুকুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই শহরে পৌরসভার মেয়র আছেন বলে মনে হয় না। আমরা ব্যবসায়ীরা এই জলাবদ্ধতা আর রাস্তা সংস্কারের জন্য অনেকবার পৌর মেয়রকে বলেছি, কিন্তু কোন সমাধান নেই। আমাদের এখানে কি আর করার আছে।

এ বিষয়ে পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে আমার কি করনীয় থাকতে পারে। একদিকে সরকারী কোন বরাদ্দ নেই। অপরদিকে সারা দেশের ন্যায় পাবনায়ও ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ার কারনেই এমনটি হয়েছে। তার পরেও আমি প্রত্যেকটা ওয়ার্ড কাউন্সিলদের বলেছি, পানি প্রবাহের জায়গা এবং ড্রেন গুলো পরিস্কার রাখতে যেন পানি দ্রুত বের হয়ে যায়।