আন্তর্জাতিক অগ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় সরে দাঁড়াচ্ছেন তারেক, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বিএনপির রাজনীতি

বিএনপি সূত্র বলছে, নিজের দেশি ও আন্তর্জাতিক অগ্রহণযোগ্য এবং সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়টি মাথায় রেখেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির এই নেতা। জানা যায়, মির্জা ফখরুল অথবা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন হতে পারেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম খানের মত নেতারা সম্ভাব্য তালিকায় না থাকায় বিভক্তি দেখা দিয়েছে দলের সিনিয়র হাইকমান্ডে।

লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে সব ধরনের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন তারেক রহমান। নিম্ন আদালতে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় সহসাই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না বিএনপি নেত্রী। এছাড়া তারেক রহমানও একাধিক দুর্নীতি ও ফৌজদারী মামলার দণ্ড নিয়ে বিদেশে পলাতক জীবন যাপন করছেন। বিদেশ থেকে দল চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তারেককে। দূর থেকে নেতারা তার কথা মানতে চান না। দলে ধীরে ধীরে তার বিরোধী অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে।

বিএনপির নির্বাচনী কমিটি বলছে, আগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া বা না নেওয়া নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। তারেক বলছেন বেগম জিয়াকে বাদ দিয়েই দলের নিবন্ধন বাঁচাতে নির্বাচনে অংশ নিতে। কিন্তু খালেদাপন্থী নেতারা তার মুক্তি বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিপক্ষে। তাদের মতে খালেদার বাহিরে বিএনপির কোন অস্তিত্ব নেই। খালেদাই বিএনপির প্রাণশক্তি। তারেক বিএনপির শাখা মাত্র। এছাড়া ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতি করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বদনাম করেছেন তারেক। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে বাংলাদেশ জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের পীঠস্থানে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলো তারেক রহমানের প্রতি নাখোশ। তারেক রহমানকে বিশ্বাস করে না বন্ধু রাষ্ট্রগুলো। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তারেক আবারো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

এছাড়া তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারপারসন হওয়ায় দলটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন কর্মীরা। তাদের বক্তব্য স্পষ্ট। দণ্ডিত ও চিহ্নিত একজন দুর্নীতিবাজ কখনোই কোন রাজনৈতিক দলের প্রধান হতে পারে না। এটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাই তারেক রহমান বিএনপির প্রধান পদ আগলে রাখলে নির্বাচনে অর্থ সাহায্য এবং চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে বিএনপির মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের কিছু বন্ধু রাষ্ট্র। তারা এক শর্তেই বিএনপিকে সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা করবে, যদি তারেক রহমান দলীয় প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

সূত্র বলছে, যদিও বিষয়টি তারেক রহমানের জন্য কষ্টসাধ্য। তারেক চাইবেন না বিএনপির মত রাজনৈতিক দলের মালিকানা হারাতে। কিন্তু লাভ-ক্ষতি হিসাব করে নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি দলীয় প্রধান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর মনস্তাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক বলে লন্ডন সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার অনুপস্থিতিতে মির্জা ফখরুল অথবা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলেও গুজব ছড়িয়েছে দেশে ও লন্ডনে।

এদিকে নজরুল ইসলাম খানের মত সিনিয়র নেতাকে বাদ দিয়ে মির্জা ফখরুল ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সম্ভাব্য দলীয় প্রধানের সংক্ষিপ্ত তালিকায় না রাখায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির রাজনীতিতে। দলীয় কর্মীরা দলে অবহেলা ও স্বার্থের রাজনীতির জন্য মির্জা ফখরুল ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সমালোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারেক রহমানের এমন একমুখী সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা।