কারাগারে আদালত নিয়ে আপত্তি: বিএনপির নতুন কৌশল

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। উক্ত মামলায় খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কারাগারে বসানো আদালতের জের ধরে পুনরায় দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বিএনপি। এমনকি পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে আদালত বয়কট করতে পারেন খালেদা জিয়া, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় এমন খবর! অথচ খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে গত সাত মাসে তাকে একবারও আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় উক্ত মামলার শুনানি শেষ করতে কারাগারের ভেতরেই আদালত বসিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

কারাগারে আদালতের বিষয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবী জয়নাল আবেদীনও আপত্তি জানানোর সময় স্বীকার করেছেন খালেদার অসুস্থতার কথা। এক প্রশ্নের জবাবে জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “হঠাৎ করে জেলখানার একটি কক্ষকে কারাগার হিসেবে পরিগণিত করে একটি অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে। গত তারিখে অসুস্থ অবস্থায় বলতে গেলে জোর করে তাকে সেই আদালতে হাজির করা হয়েছে।” উক্ত আপত্তি প্রকাশকালে এক সাংবাদিক জয়নাল আবেদিনের কাছে প্রশ্ন রাখেন, “খালেদা অসুস্থ অবস্থায় মূল আদালতে বিচার না করে কারাগারে বিচার করা ভালো নয় কি?” জয়নাল আবেদীন প্রশ্নটি এড়িয়ে যান।

বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আদালতে খালেদা জিয়ার বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নামার কথা ভাবছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সামনে উক্ত ইস্যু নিয়ে কর্মীদের মাঠে চায় বিএনপি। পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে কারাগারে আদালত বসালে সেটি বয়কট করবেন বিএনপির আইনজীবীরা। এবং খালেদা জিয়াও সেটি বয়কট করবেন। সূত্র আরো জানায়, এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

কারাগারে আদালত এবং বিচারিক কার্যক্রমের যৌক্তিকতা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আইন মেনেই কারাগারে অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ওই মামলাটি করা হয়, বর্তমান সরকার মামলাটি করেনি। সাজা দেয়ার লক্ষ্যে সরকার চেষ্টা করছে, এটি ঠিক নয়। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে এমন বক্তব্য আদালতের প্রতি অনাস্থা, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো মামলা বিচারের জন্য কোনো স্থানকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা নতুন নয়। তাছাড়া খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণেই কারাগারে অস্থায়ী আদালত করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার বিচার যখন হয়, তখন পুরোনো কারাগারের একটি অংশকে আদালত ঘোষণ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই কর্নেল তাহেরকে দেশদ্রোহিতার মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়েছিল জিয়াউর রহমানের আদালত। সেটিও হয়েছিল কারাগারের একটি কক্ষকে অস্থায়ী আদালতে পরিণত করে। কাজেই কারাগারে আদালত বসানো মূলত শুরু হয় জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই।