জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় স্বৈরাচারী আচরণে প্রশ্নবিদ্ধ ড. কামাল, ক্ষুব্ধ তারেক রহমান

গণফোরাম নেতা ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার একচ্ছত্র মালিকখ্যাত ড. কামালের স্বৈরাচারী ও একপেষে আচরণে চরম বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান। ড. কামাল জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শুরুতেই সর্বেসর্বা ভাব প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন সরকারের সাথে আঁতাত করার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ায় তাকে জাতীয় বেইমান বলে অভিহিত করে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংশের হুমকি দিয়েছেন তারেক রহমান। এত কষ্ট করে বিদেশে বন্ধুদের রাজি করিয়ে, অর্থের ব্যবস্থা করে সরকার পতনের আন্দোলনে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন করে শেষ পর্যন্ত নিজ ভাগের ফলাফল শুন্য হওয়ায় ড. কামালের ওপর বেজায় ক্ষেপেছেন তারেক রহমান। শেষ বয়সে এসে ড. কামালের এমন প্রতারণা ও বিক্রির বস্তু হয়ে পড়ায় হতাশ হয়েছেন তারেক রহমান।

লন্ডন বিএনপি নেতা আবদুল মালেকের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে তৃতীয়পক্ষের সাহায্য নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের জন্য বিদেশি বন্ধুদের সাহায্যে সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামক বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তারেক। এর জন্য কোটি কোটি টাকা পকেট থেকে খরচ করেছেন তারেক। যেহেতেু সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে, তাই বিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা আওয়ামী লীগ বিরোধী তাদের মাধ্যমে জোট গঠন করে দেশে অবস্থিত কয়েকটি দূতাবাস ভবনের সাহায্যে ষড়যন্ত্র ক্ষমতা দখলের জন্য পরিকল্পনা করেন তারেক। তারেক রহমান যে আশা নিয়ে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেটি স্পষ্টতই ব্যর্থ মনে হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকা সত্ত্বেও মাঝখান থেকে অনেকগুলো টাকার প্রলোভনে চরিত্র পাল্টান ড. কামাল। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে নিজস্ব সম্পত্তি ভেবে এরই মধ্যে স্বৈরাচারী আচরণ শুরু করেছেন ড. কামাল। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিজের ইচ্ছামত নিচ্ছেন ড. কামাল। অথচ কথা ছিল সবাই মিলে রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কিন্তু টাকার কাছে নিজেকে বিক্রি করে দেওয়া ড. কামাল কারো কথা শুনছেন না। ড. কামালের এমন একপেষে ও স্বৈরাচারী আচরণে চরম বিরক্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন তারেক। তিলে তিলে গড়ে তোলা ষড়যন্ত্রের নীল নকশা ড. কামালের মতো কীট সব কিছু বিনষ্ট করে দেওয়ায় রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের আশা ছেড়ে দিয়েছেন তারেক। ষড়যন্ত্র বাদ দিয়ে ড. কামালকে লাইনে আসার জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফোন করেন তারেক।

ড.কামালের চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ড. কামালকে সব বাদ দিয়ে বিএনপির দেখানো পথে হাটার জন্য আদেশ দেন তারেক। তা না হলে শেষ বয়সে রাজনীতির পেছনে পয়সা খেয়ে নিমকহারামীমত নোংড়ামি জনসম্মুখে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন তারেক রহমান।

ড. কামাল আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করলে এর ফল ভাল হবে না এবং দেশের মাটিতে হেনস্তার শিকার হবেন বলেও তাকে সতর্ক করেন তারেক। আর কথা না শুনলে ড. কামালকে বিনিয়োগ করা কোটি কোটি টাকা ফেরত চান তারেক। সূত্র বলছে, তারেক রহমানের এমন হুমকিতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন ড. কামাল। একদিকে যেমন সরকারকে কথা দিয়ে ফেলেছেন আবার অন্যদিকে যাদের কারণে পকেটে কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে তাদেরকেও অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না ড. কামাল। বর্তমানে তার অবস্থা ‌’জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ’।

ড.কামালের এমন পরিণতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিষয়ের একজন অধ্যাপক বলেন, ড.কামালের মতো প্রতারক রাজনীতিকের জন্য দেশের আজ এই অবস্থা। ড. কামাল কোনো চরিত্র স্থির নন। অর্থ-বিত্তের লোভে তিনি নিজেকে বিক্রি করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। সারাজীবন প্রতারণা ও অর্থের লোভে রাজনীতি করেছেন ড. কামাল। এখন শুনছি বিএনপির টাকা খেয়ে আওয়ামী লীগের সাথে হাত মেলাচ্ছেন ড. কামাল।