নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন খালেদার আইনজীবীরা

 

বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। তাদের নিজেদের মধ্যে এ অন্তর্কলহের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন খালেদার একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

বিএনপি সমর্থিত এই আইনজীবী প্যানেলের বিভেদের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিভক্তির অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত না থাকায় তাদের উপর ক্ষুব্ধ অন্যান্য আইনজীবীরা। বিএনপির এই দুর্দিনে পদধারী অনেক আইনজীবীই দল পরিবর্তন করার চিন্তা ভাবনা করছেন।

এদিকে, ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে আইনজীবীদের ‘ক্ষোভ’ মেনে নিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘’অনেকদিন ধরে কমিটি হয় না। এজন্য অনেকের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। চাইলেই তো আর এখন হুট করে কমিটি দেয়া সম্ভব নয়। এখন কমিটি দিলে দলের মধ্যে বিভক্তি বাড়বে। তাছাড়া আমাদের নেত্রী ও কারাগারে আছেন। তারেক রহমান  এ ব্যাপারে খুব শীঘ্রই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

এর বাইরেও খালেদা জিয়ার মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে তার আইনজীবীরা অঘোষিত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। এরমধ্যে একটি অংশে আছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, খালেদা জিয়ার মামলার অন্যতম আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও বিএনপির আইন সম্পাদক কায়সার কামালসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

অবশিষ্ট অংশে আছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ প্রমুখ আইনজীবী। আইনজীবীদের এই অংশটি শুধু উপস্থিতির খাতিরে খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে হাজির থাকেন। কিন্তু মামলার প্রস্তুতিতে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তারেকের  কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করলেও কোনো ফল হয় নি।

আইনজীবীদের মধ্যে ঐক্যে ফাটল সৃষ্টির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র আইনজীবী জানান, মূলত তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতার কারনেই এমন হচ্ছে।