বিদেশি নির্ভরতায় ভরাডুবি হতে পারে ঐক্যফ্রন্টের, বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা প্রকাশ

বিদেশিদের ইশারায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে জাতীয় ঐক্য যাত্রা শুর করেছে। জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি ড. কামালকে মুখপাত্র বানিয়ে বিদেশিদের ভরসায় আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করছে। যেটি বোকামি ছাড়া কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বিদেশিদের দ্বারস্থ হয়ে জাতীয় ঐক্যের নেতারা ঐতিহাসিক ভুল করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তারা। অতিরিক্ত বিদেশ নির্ভরতার কারণে নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবিরও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা যায়, অতীতের বিচ্ছিন্ন রাজনীতির কারণে জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিএনপি ড. কামালের ভরসায় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বিএনপি জনগণের কাছে না গিয়ে, ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিদেশিদের কাছে ধরণা দিচ্ছে। ঐক্যফ্রন্ট বিদেশিদের আশীর্বাদ নিয়ে যেকোন উপায়ে দেশ শাসনের দায়িত্ব নিতে চায়। জনগণকে অবহেলা করে তৃতীয়পক্ষের সহায়তায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য ঐক্যফ্রন্টের এমন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে এবং তাদের এমন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নির্বাচনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক বলেন, বিএনপি ড. কামালদের ওপর ভরসা করে নির্বাচন কেন্দ্রিক যে স্বপ্ন দেখছে তা পূরণ হবে না। এদিকে বিএনপির মত বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলকে নিজেদের জোটে টানতে পেরে সৌভাগ্যবান মনে করতে পারেন ড. কামালরা। ড. কামাল, মান্না ও রবের মত নেতারা মূলত জলে ভাসা কচুরিপানার মত। তাদের শিকড় নেই। বিএনপিকে তারা শিকড় ভেবে যে সব পরিকল্পনা করছে সেগুলো কখনই বাস্তবতার মুখ দেখবে না। কারণ তারা জনগণকে উপেক্ষা করে বিদেশিদের ওপরে বেশি ভরসা করছে। ভোট তো দেশবাসী দিবেন, বিদেশিরা নয়।

বিদেশিদের ওপর ভরসা করে অন্তত আপনি ভোটে জিতে দেশ চালানোর স্বপ্ন দেখতে পারেন না। দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে তার নাগরিক, বিদেশি কোন শক্তি না। অতিরিক্ত বিদেশি নির্ভরতা না কমালে জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

জনবিমুখতার কারণে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বড় হোঁচট খাবে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ নেতা সুভাস সিংহ রায় বলেন, যদি জনগণের প্রতি ঐক্যফ্রন্টের আস্থা থাকত, তাহলে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর তারা জনগণেরই কাছে যেত। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর প্রথম তারা বিদেশিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছে। তারা কোন জনসমাবেশে করিনি। ঐক্যফ্রন্ট যে দেউলিয়া সেটি প্রমাণিত। বিএনপি ও ড. কামালরা জনসমর্থনহীন। বিএনপি ১০ বছর ধরে আন্দোলনের ডাক দিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়ে ড. কামালকে ধার করে নতুন করে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।