বাংলাদেশে স্থাপন হচ্ছে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল

আগামী বছরই দেশে প্রতি সেকেন্ডে ২ টেরাবিট ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ চাহিদায় পৌঁছাবে। দ্রুত বর্ধনশীল এই চাহিদা কয়েক বছরের মধ্যে সাবমেরিন ক্যাবলের বিদ্যমান সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাবে। যে কারণে তৃতীয় একটি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে দিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি-বিএসসিসিএল। যা চলতি বছরই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকে আমরা ২৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাচ্ছি। দ্বিতীয় ক্যাবলের ক্ষমতা ১৩ শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। ভবিষ্যতে এই ক্যাবল আপগ্রেড করলে সর্বোচ্চ ১৭ শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাওয়া যেতে পারে। কিন্ত যখন দেশের সব ইউনিয়ন কানেক্টিভিটির আওতায় চলে আসবে তখন ২ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হবে। দুটি ক্যাবল মিলে দেশে আসছে ৪শ’ ৯০ জিবিপিএস। বাকি ব্যান্ডউইথ বেসরকারীভাবে দেশে আনা হচ্ছে।

দেশে এর আগে দুটি সাবমেরিন কেবল সি-মিই-উই-৪ এবং সি-মিই-উই-৫ স্থাপন করা হয় দুটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে। ২০০৬ সালে এবং ২০১৭ সালে এ দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ ব্যবহার শুরু হয়। তবে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ‘তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলটি কোন কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ আবার কতদিনে নতুন কনসোর্টিয়াম হবে তার জন্য অপেক্ষা করলে ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইথের চাহিদা মোকাবেলা করা যাবে না। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হতে পারে অন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে। তবে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত যেসব দেশ পড়বে, তারা এ সংযোগে যুক্ত হতে চাইলে তা বিবেচনা করা হবে’।

প্রথম ক্যাবলটির ‘লাইফ টাইম’ যেহেতু ২০ বছর। ইতোমধ্যে ১৪ বছর পার হয়ে গেছে। বাকি আছে মাত্র ৬ বছর। ক্যাবল যত পুরনো হয় মেরামতের কাজ তত বেশি করতে হয়। পুরনো ক্যাবল মেরামতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। এই টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে কনসোর্টিয়ামকে।