বিএনপি থেকে মাইনাস হওয়ার পথে জিয়া পরিবার?

বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে যারা একটু সচেতন বা নিয়মিত পত্র-পত্রিকা, টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজীনীতির খোঁজ খবর রাখেন তারা সহজেই একটা বিষয় অনুমান করতে পারছেন যে, রাজনীতিতে নতুন খেলা শুরু হয়েছে। প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন খেলোয়াড়। যদিও এই খেলা বা খেলোয়াড় কেউই নতুন না। বলা যায়, পুরাতন পথ্য নতুন মোড়কে বাজারজাত করা হয়েছে মাত্র।
সাম্প্রতিক সময়ের সব থেকে আলোচিত, মুখরোচক টপিক হচ্ছে- ”জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট”। ১২/১০/১৮ তারিখ বিএনপি, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, আ.স.ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য মিলে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে । জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর নেতৃত্বে রাখা হয়েছে আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে।
বিএনপির মতো একটি দল ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকার পরেও বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করা এককালের কট্টর আওয়ামী লীগারকেই কেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর নেতা বানানো হল এ নিয়ে গুঞ্জন চলছেই। অবশ্য গুঞ্জন থাকাটাই স্বাভাবিক, কারণ কামাল হোসেন ১৯৭০ সালের পাকিস্থানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালে আইনমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে (১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সুযোগে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বেগম খালেদা জিয়া তথা জিয়া পরিবারকে মাইনাস করে দিচ্ছেন।
এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় জেল খাটছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হয়েছেন তারেক রহমান, কিন্তু তিনিও বিভিন্ন মামলা এবং সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় পলাতক জীবন যাপন করছেন।
তারেক রহমানকে বিএনপির মধ্যেই যারা মাঠের রাজনীতি করেন বা একটু উদারবাদী বলে পরিচিত এবং সিনিয়র, তারা কেউই পছন্দ করেন না। কারণ তারা মনে করেন, বিএনপির আজকের এই দুর্দশার মূলে রয়েছেন তারেক রহমান। আর ছেলের শত অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে সেই অন্যায়কে বাড়তে দিয়েছেন মা খালেদা জিয়া। জিয়া পরিবারের জীবিত এই দুই সদস্যের কারণেই বিএনপির এই ভঙ্গুর অবস্থা। কিন্তু দলটির অনেক নেতা-কর্মী সক্রিয় থাকলেও শুধুমাত্র মা-ছেলের ভুল রাজনীতির কারণে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিএনপির তৃণমূল এর সবাই তাদের ভুল রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে চায়।