জাতীয় বেয়াদব

আমাদের দেশে আছে জাতীয় ফল, জাতীয় ফুল, জাতীয় পশু, জাতীয় পাখি ইত্যাদি। আর এসবের সাথে আছে জাতীয় বেয়াদব। আর এই জাতীয় বেয়াদবের নাম তারেক রহমান।

গত রোজার ইদে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে  মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন কর্মসূচির জন্য নেতাদের আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হয়েছে লন্ডনে পলাতক মিস্টার টেন পারসেন্ট তারেক ওরফে তারেক রহমান। জানা গেছে, নেতা-কর্মীদের আন্দোলন বিমুখতা নিয়ে চরম ক্ষেপেছেন খাম্বা তারেক নামে পরিচিত এই তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের ব্যর্থতার জন্য বিদেশি বন্ধুদের থেকে প্রাপ্য ইদ সেলামি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারেক রহমান। বিএনপির এক গোপন সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ৫ জুন রাতে তারেক লন্ডন থেকে টেলিফোন করে মির্জা ফখরুল,রুহুল কবির রিজভী, মওদুদ আহমেদসহ একাধিক সিনিয়র নেতাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। তারেক বলেন, আপনাদের আন্দোলন করতে হবে না। হাতে চুড়ি পরে বসে থাকুন। আন্দোলন বাদ দিয়ে মসজিদে গিয়ে নেসাব করুন। আপনাদের পদে বসানোটা ভুল হয়েছে। আপনাদের জন্য ইদ সেলামি মিস হয়ে যাচ্ছে।

আন্দোলনের জন্য সৌদি আরব থেকে টাকা আসার কথা। কিন্তু তার আগে সৌদি আরব ডেমো আন্দোলন দেখতে চায়। আপনাদের এত করে বললাম দু-চারটা মিছিল করেন, ককটেল ফুটান, দু-তিনটা গাড়িতে আগুন দেন। আপনারা তো কোনো কথা কানে নেন না। এখন টাকা না পেলে আমার ইদ হবে কেমন করে? আপনাদেরকে টাকা পাঠাতে বললে তো একেকজন অভাবের গল্প শুরু করে দেন। বিএনপির আমলে তো কম কামাই করেননি আপনারা। সেই টাকা গেল কই? আপনারা সবাই নিমকহারাম। আপনাদের প্রতারণার কারণে বেগম খালেদা জিয়া আজকে জেল খাটছেন। দেশে থাকলে আপনাদের কান ধরে চাঁদ দেখাতাম।

এদিকে তারেকের এমন খারাপ ব্যবহারের বিষয়ে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, তারেক রহমান আগে থেকেই বেয়াদব। সিনিয়র-জুনিয়রের জ্ঞান নেই তার। নিজের পকেট ভরার জন্য আমাদের মাঠে নেমে পুলিশের মার খেতে বলছেন। আরে ভাই! ইদের আগে খামোখা ইস্যু ছাড়া আন্দোলন করে জেলে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। পরিবার নিয়ে ইদ করতে হবে। দূরে বসে বয়ান মারলেই নেতা হওয়া যায় না। ঠিকই চারদিক থেকে চাঁদা তুলে খাচ্ছেন তারেক রহমান। আর আমরাতো এতিমের মতো জীবন যাপন করছি। আমাদের কেউ খোঁজ নিচ্ছে না। এসব কথা বলতে বলতে অঝোরে কেঁদে ফেলেন সিনিয়র এই নেতা।

স্বঘোষিত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েই সিনিয়র নেতাদের ধমকাতে শুরু করে তারেক। সিনিয়র নেতাদের সতর্ক করে বললেন, ‘কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে, বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য তারেকের এই তৎপরতাকে বাড়াবাড়ি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির এই সংকটে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার কোনো লক্ষণ তারেকের মধ্যে নেই।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য তারেকের ফোনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ছেলেটা একটা আস্ত বেয়াদব। আদব কায়দার লেশমাত্র নেই। ওর বাবার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আমাকে আগে আঙ্কেল বলতো এখন নাম ধরে ডাকে।‘ দু:খ করে তিনি বলেন, ‘চাকর বাকরের সঙ্গে যেভাবে কথা বলে সেভাবেই আমাদের সঙ্গে কথা বলে তারেক।’ দলের প্রবীণ ওই নেতা বলেছেন, ‘শুধু ম্যাডামের জন্যই এখনো রাজনীতি করছি। তারেকের অধীনে রাজনীতি করার প্রশ্নই আসে না।‘

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তারেকের ফোন কলে দলের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একজন ব্যবসায়ী নেতা তারেককে মাথা গরম না করে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে বলেছেন। তারেককে বলেছেন, ‘এভাবে রাজনৈতিক দল চালানো যাবে না।’

তারেককে ঘিরে গড়ে উঠা লন্ডনভিত্তিক চক্র বিশেষ করে আব্দুল মালেক ও জামাত সংশ্লিষ্ট চক্রটি তারেকের নিকট প্রচন্ড আস্হা তৈরি করেছে। দুঃসময়ে তাদের আশ্রয়ে থেকে তারেককে তারা তাদের কাছে ঋণী করে ফেলেছেন। ফলে এ চক্রটি তারেক কেন্দ্রিক হাওয়া ভবনের মতো আরেকটি বলয়ের সৃষ্টি করেছে। ফলে, ভবিষ্যতে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা বঞ্চিত ও কোনঠাসা হবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত। পার্টির অভ্যন্তরে এ চক্রটি ইতোমধ্যেই ধরাকে সরা জ্ঞান করছে বলেই আভাস মিলছে বিভিন্ন সিনিয়র রাজনৈতিকদের কথায়। ফলে অদূর ভবিষ্যতে দলে যে বিভক্তি আরো বাড়বে তা মোটামুটি নিশ্চিত বলেই আশংকা প্রকাশ করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপির থিংকট্যাঙ্ক খ্যাত বুদ্ধিজীবি।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্তত দুজন সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান এবং ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জেনারেল মাহাবুব বলেছেন, ‘গঠনতন্ত্রে এরকম কোনো বিধান নেই। তাছাড়া তারেক নিজেই তো দেশে নেই। বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলকে বিদেশ থেকে নেতৃত্ব দেওয়া অবাস্তব চিন্তা।’ সূত্রমতে, দলের সিনিয়র নেতারা কম বেশি সবাই এ ব্যাপারে অভিন্ন অবস্থানে আছেন। তারা মনে করেন, তারেকের নেতৃত্ব গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। বেগম জিয়ার কারাজীবন সাময়িক বলে মনে করছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বেগম জিয়া জেল থেকে বের হবার আগ পর্যন্ত যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।

খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান বিশ্ব বেয়াদব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব ছেলে’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি। আনিসুল হক বলেন, তারেকের জন্মই বোধহয় বিদেশে হয়েছে। এজন্যই সে সব সময় বিদেশে বসে কথা বলে, দেশে আসতে সাহস পায় না। সে চরম বেয়াদব একটা ছেলে। সে তার বাবাকেই শ্রদ্ধা করতে জানে না। তাহলে অন্যকে শ্রদ্ধা করবে কিভাবে! তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারেক সেন্ট জোসেফে পড়াশুনার সময় বেয়াদবি করায় তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধু আল্লাহই জানেন। এজন্যই সে বিদেশে বসে উল্টাপাল্টা কথা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকে নাম ধরে সম্বোধন করায় তারেক রহমানকে ‘বিশ্ব বেয়াদব’ বলেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের স্ত্রী শাহেদা ওবায়েদ।

জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ নিউ জেনারেশন পার্টির (বিএনজিপি) আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তারেক রহমানের সমালোচনা করেন শাহেদা।আমার কাছে খুব খারাপ লাগে যখন উনি ভিডিও বার্তায় বঙ্গবন্ধুকে শেখ মুজিব, শেখ মুজিব বলে। রাজনীতির কথা বাদই দিলাম, আমাদের পারিবারিক শিষ্টাচার কী বলে? সে একটা বিশ্ব বেয়াদব। নানার বয়সী একজন নেতাকে নাম ধরে ডাকে।”

“তারেক সাহেব লন্ডনে বসে বসে ভিডিও বার্তায় নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামার নির্দেশ দেন। নেতাকর্মীরা কি মায়ের সন্তান নন? তারা রাস্তায় নামবেন, লাশ হবেন, জেলে যাবেন। আর উনি দামি স্যুট পরে ভিডিও বার্তা পাঠাবেন।”

কিছুদিন আগে একটি টকশোতে মেজর আক্তারুজ্জামান (অব:) তারেক রহমানকে বেয়াদব বলে সম্বোধন করেন।

তারেকের এই বেয়াদবির শুরু ছোটোবেলা থেকেই। ছোটোবেলাতেই বাবা জিয়ার সাক্ষর নকল করে জানান দিয়েছিলো এই বেয়াদব তারেক। আর আজকে তিনি প্রতিষ্ঠিত বেয়াদব।