২২ বছরের জন্য নির্বাচনে নিষিদ্ধ হলেন খালেদা জিয়া

 

নিউজ ডেস্ক : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন বিএনপির কারান্তরীণ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর এক দিনের মাথায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা দুদকের রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পৃথক এই দুই মামলায় এরইমধ্যে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন তিনি। আইনজীবীরা বলছেন, এর কারণে অন্তত ২২ বছরের জন্য নির্বাচনের জন্য নিষিদ্ধ হতে হলো খালেদা জিয়াকে।

সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ (২ গ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নৈতিক স্খলনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর কারাবাসে থেকে মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে কেউ নির্বাচনে যোগ্য হবেন না।  সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ মোতাবেক দুইটি পৃথক মামলায় যথাক্রমে ১০ এবং ৭ বছর মিলে ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে খালেদা জিয়াকে।  সাজা শেষ হওয়ার পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না তিনি।  ফলে খালেদা জিয়াকে ২২ বছর নির্বাচনের বাইরে থাকতে হবে এ বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত।

এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৬৬ (২ গ) অনুচ্ছেদ অুনযায়ী- একদিকে যেমন যেকোন ব্যক্তির ন্যূনতম ২ বছরের কারাদণ্ড হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হবেন।  অন্যদিকে ওই ব্যক্তি কারামুক্তির ৫ বছরের মধ্যে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।  যেহেতু দুই মামলায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে ফলে তিনি এই সময় এবং পরবর্তীতে ৫ বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।  যেহেতু তার নামে আরও প্রায় ৪২টি মামলা রয়েছে সেগুলোতেও যদি কারাদণ্ড হয় তবে ১৭ বছর মেয়াদের সঙ্গে বাকি কারাদণ্ডাদেশও যুক্ত হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এতিমদের জন্য পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

এরপর এ বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।  এছাড়া ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদি কে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে    খালেদা জিয়ার করা আপিল খারিজ করে ৩০ অক্টোবর সকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।