খালেদা-তারেকবিহীন বিএনপিতে ফখরুল-আব্বাস-মওদুদ গং পাচ্ছেন সুদিনের আভাস

রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেয়ার কথা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন বিশ্বাসঘাতক জিয়া। রক্ত হাতে, চশমা চোখে খুনী জিয়া জড়িত ছিলেন বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডসহ স্বাধীনতা পরবর্তী প্রায় সকল অপকর্মেই। চার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে প্রহসনের বিচারে ঝুলিয়েছেন ফাঁসিতে। বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ক্ষমতায় এসে জিয়া কুক্ষিগত করেন প্রশাসন, বিচারব্যবস্থাসহ দেশের সকল খাতকে। তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের নামে জনগণের সাথে রসিকতার সকল ধাপ সম্পন্ন করেন। জিয়াকে বৈধতা দিতে আয়োজিত সেই নির্মম রসিকতার আয়োজনে ভোটারেরা ‘না’ যুক্ত ব্যালটই খুঁজে পাননি।

বিচারপতি আবু মোহাম্মদ সায়েম তার ‘বঙ্গভবনের শেষ দিনগুলো’ বইয়ে উল্লেখ করেন, ‘ক্ষমতা দখল করার পরে জিয়া প্রায় প্রতি রাতেই অস্ত্র নিয়ে তার কক্ষে আসতেন এবং জিয়ার নির্দেশ অমান্য করলে খুন করে ফেলার হুমকি দিতেন’। বিচারপতি সায়েম একে উল্লেখ করেছেন ‘এক চরম ভীতিকর পরিস্থিতি’ হিসেবে।

যদিও শেষরক্ষা হয়নি ইতিহাসের অন্যতম বর্বর এই শাসকের। দলের বিরোধ মেটাতে চট্টগ্রামে খুন হন জিয়া। জীবদ্দশায় নীতি-আদর্শবিহীন লোকদের বিএনপিতে টেনে এনে ক্ষমতালোভী জিয়া সত্যিকার অর্থেই রাজনীতিকে সজ্জন মানুষের জন্য কঠিন করে তুলেছিলেন। জিয়া নিহত হবার পরে তার দেখানো সেই পথেই হেঁটেছেন পাকি সেনা অফিসারদের প্রিয়ভাজন, জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া। তারেক জিয়া তো যেন আরো এক কাঠি সরেস। খুন-সন্ত্রাস, দুর্নীতি, বেয়াদবি, নারী কেলেংকারীতে পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবেই আবির্ভূত হন এই কুলাঙ্গার। দলের ভেতর থেকেই আওয়াজ ওঠে ‘মা-ছেলের দোকান বিএনপি’কে সমর্থন করা কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

দেশের মানুষের ওপর জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসা খালেদা-তারেক শাসনামল পেরিয়েছে বহু আগেই। পদ্মা-মেঘনা-যমুনার জল গড়িয়েছে অনেক।
নিজেদের সকল কুকর্মের দায়ে তাদের জীবনের অনেকগুলো মুহূর্ত কাটছে আদালতের বারান্দায়- কাঠগড়ায়। ভুক্তভোগীরা পাচ্ছেন ন্যায়বিচার।

তবে খালেদা-তারেকবিহীন বিএনপিতে ফখরুল-আব্বাস-মওদুদ গং পাচ্ছেন সুদিনের আভাস। দীর্ঘবছর অপমানিত-অবহেলিত হবার পর তারা এখন বিএনপির হর্তাকর্তা। খালেদা-তারেক তাদেরকে যেভাবে ‘হুকুমের চাকর’ বানিয়ে রেখেছিলেন, সেই দিন পেছনে ফেলে তারা স্বপ্ন দেখছেন মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াবার, মা-ছেলের দুর্দিনে তাই তারা একপ্রকার নীরবই থাকছেন।

সঙ্গী হিসেবে সাথে পেয়েছেন গালফুলা কামালকে। অবশ্য এই জামানতহারা নেতাকে ‘ইস্যুবিহীন’ আন্দোলনে না জড়িয়ে এযাবতকালে হারানো সকল জামানত ফেরত দেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামতে পরামর্শ রসিকজনদের। তারা বলছেন, ‘জামানতের সকল টাকা ফেরত পেলে তিনি তার স্থায়ী নিবাস আমেরিকায় বড়সড় একটা বাড়ি করলেও করে ফেলতে পারেন’।

বিশ্লেষকেরা অবশ্য ‘হামবড়া কামাল’কে ডুবন্ত জাহাজে পাটাতনের নিচে থাকা ইঁদুরের সাথেই তুলনা করছেন। জাহাজ ডোবার আভাস পাওয়া মাত্রই এই ইঁদুর সবার আগে জাহাজ থেকে নেমে যাবে। জ্ঞানপাপী কামালও ‘ঐক্যফ্রন্ট’ ডোবার আভাস পাবার সাথে সাথেই আমেরিকা পাড়ি জমাবেন, তা বুঝতে অবশ্য বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই!

ইতোমধ্যে খালেদা-তারেকের অসংখ্য অপকর্মের দায় চাপাতে শুরু করেছে অতিথি পাখি কামালের গায়ে। সুবিধাবাদী কামাল এসব কুকর্মের দায় কতদিন বয়ে বেড়াবেন, তা দেখার অপেক্ষায় জনগণ।

তবে, সন্ত্রাস, খুন, দুর্নীতির ইঁদুরে কাটা বিএনপিতে যে ‘মা-ছেলের অপশাসন-শোষণ’ আর ফিরছে না, সেকথা বলছেন বিশ্লেষকরা।