আন্দোলন নাকি নির্বাচন: সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচলে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণায় সারা দেশে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনের হওয়া। জনমনে প্রশ্ন- কবে হবে ভোট? তবে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনাটা একটু আলাদা। কী করবে বিএনপি? আন্দোলন নাকি নির্বাচন? এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে দলটি। এমন দোলাচলে কোন পথে যাওয়াটা ঠিক হবে সে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বিএনপির জন্য।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নানা দাবি আছে। এর মধ্যে কিছু দাবি পূরণ করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। যেমন সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, আছে প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ। এসব অযৌক্তিক দাবি মানা হবে না তা স্পষ্ট। এমন প্রেক্ষাপটে এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, ৮ নভেম্বর সরকারের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপে যদি কাঙ্খিত সমাধান না হয়, তাহলে বিএনপি কি আবার আন্দোলনে যাবে নাকি সব মেনে নির্বাচনে যেতে প্রস্তুতি নেব?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নেয়াও বিএনপির জন্য সহজ নয়। কারণ, দুইবার আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে তাদের। এই অবস্থায় তৃতীয়বার নেতাকর্মীরা আগ্রহী হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার ভোট বর্জন করলে নিবন্ধন আইনের মারপ্যাঁচেও পড়তে হতে পারে বিএনপিকে। নিবন্ধন বাতিল হলে দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নেয়া যাবে না আর।

অন্যদিকে আবার সরাসরি ভোটে আসার ঘোষণা দিলে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে পাঁচ বছর আগে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এই অবস্থায় শীর্ষ নেতারা কী করবেন, সেদিকে তাকিয়ে আছেন দলটির কর্মী সমর্থকরাও।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন এবং আন্দোলন দুই প্রস্তুতিই আমাদের আছে। তবে এ নিয়ে এখনো নতুন করে বলার কিছু নেই। কিছু হলে আপনারা জানবেন। তবে আন্দোলনের দিকে না গিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ চাপ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এমন প্রেক্ষাপটে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, বিএনপি অযথাই জল ঘোলা করছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে তারা নিজেদের দাবি আদায় করতে সচেষ্ট হয়েছে। এতে ড. কামালের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে তাদের বেশ কিছু জায়গায় বিপাকেও পড়তে হয়েছে। বিএনপি জলঘোলা করতে গিয়ে রাজনীতির মাঠে লাইমলাইটে নিয়ে আসছে ড. কামালকে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ছাড়া বিএনপির জন্য বাকি সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।