আবারও ছোবল দিতে চায় জামায়াত

২০১৪-১৫ সালের ভয়াবহ অগ্নিসন্ত্রাসের কথা দেশবাসী আজও ভুলেনি। বিএনপি জামায়াতের করা সেইসব নাশকতায় দেশব্যাপী এক মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। ভোটকে সামনে রেখে আবারও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত, যার সমর্থন জোগাচ্ছে বিএনপি।

  • জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি লাগাতার নাশকতার গোপন প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াত। ড. কামালের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকলে এক ধরনের চিন্তা আর নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের ডাক দিলে কৌশল কী হবে, তা ঠিক করেছে নিবন্ধনবিহীন দলটি। বিএনপির শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকা নিয়ে সন্দিহান জামায়াত। তবে এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারা ২০ দলের অন্তত ৫০ আসন চায়। ফলে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলে দাবি করলেও ২০ দলের ছেড়ে দেয়া সকল আসনেই জামায়াত নেতারা হতে যাচ্ছেন ড. কামাল হোসেনদের প্রার্থী। এতে ড. কামালের সকল বুলির গোমর ফাঁস হয়েছে ইতোমধ্যে।

বিএনপি-জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোট বর্জন করতে পারে বলে মনে করছে জামায়াত। তাই ভোট বর্জন করে নির্বাচন ঠেকানোর প্রস্তুতিও আছে জামায়াত-শিবিরের। আবার নির্বাচনে অংশ নিলে গলায় নৌকা প্রতীকের কার্ড ঝুলিয়ে ভোটকেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নেয়া এবং সহিংসতার মাধ্যমে ভোটের ফল নিজেদের অনুকূলে নেয়ার প্রস্তুতি আছে দলটির। প্রয়োজনে হামলার মাধ্যমে পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে দেয়া এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নাশকতার টার্গেট নিয়েছে দলটি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের মূল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে জামায়াত-শিবির থাকবে। সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশ জামায়াতের চট্টগ্রামের শীর্ষ কয়েক নেতাকে আটকের পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এ সকল তথ্য এরই মধ্যে প্রতিবেদন আকারে পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে আমরা জেনেছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাদের বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জামায়াতের পরামর্শে ছাত্র শিবিরের ২০১৮ সালের পুরো সাংগঠনিক পরিকল্পনা আমরা জানতে পেরেছি। এই পরিকল্পনার বড় একটি অংশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তারা পুলিশের ওপর হামলা করতে চায়। এটাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। দ্বিতীয় টার্গেট হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত দেশের সব শাখায় দিক নির্দেশনামূলক একটি বক্তব্য পাঠিয়েছে। এতে ২০ দফা দিক নির্দেশনার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেদিক নির্দেশনায় নির্বাচন নিয়ে ছাত্র শিবিরের পরিকল্পনায় সরকার বিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিজেদের বড় শক্তি হিসেবে প্রকাশের কথা উল্লেখ আছে।