বিএনপি জামায়াতের আমলনামাঃ কানসাটে ২০ জনকে গুলি করে হত্যা

 

২০০১ সালে প্রহসনের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেই স্বভাবসিদ্ধ গণবিরোধী অবস্থান নেয় বিএনপি। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহতম সন্ত্রাস ও দুর্নীতি। সারাদেশে নেমে এক অন্ধকার বিভীষিকা।

‘হাওয়া ভবন’ স্থাপন করে সরকারের ভেতরেই আরেক প্যারালাল সরকার চালাতে থাকেন খালেদার গুণধর পুত্র তারেক জিয়া। জনশ্রুতি রয়েছে তারেককে নির্দিষ্ট কমিশন না দিয়ে সরকারি কোন কাজ সম্পন্ন করা যেতো না। এমনও হয়েছে যে, খালেদা জিয়ার অনুমোদিত অনেক কাজই হাওয়া ভবনে গিয়ে বাতিল হয়েছে।

তারেককে ঘিরে গড়ে ওঠে বিশাল এক সিন্ডিকেট। তারেক বাহিনী ও খালেদা বাহিনী নামে আলাদা আলাদা বলয় গড়ে ওঠে সরকারে। দুর্নীতিতে যেন প্রতিযোগিতা চলতে থাকে দুই বলয়ে। আর সারদেশে স্থাপিত হতে থাকে বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন খাম্বা। এই খাম্বা স্থাপনের ঠিকাদারীও ছিল তারেকের মালিকানাধীন কোম্পানীর।

এসব অপকর্মের ফলেই দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হবার লজ্জাজনক রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

সীমাহীন অন্যায়-অনিয়মে দেশব্যাপী ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। এমনই তীব্র ক্ষোভ থেকে ২০০৬ সালের ৪ মার্চ তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জামায়াতের ভীত নাড়িয়ে দেয়া একটি আন্দোলনের সুত্রপাত। ৫ দফা দাবি আদায়ে ২০০৬ সালে কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ২০ জন নিরীহ মানুষ। আহত হয় শতাধিক। ফলে কানসাট ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শিবগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে। কানসাট হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ। ৫ দফা রূপ নেয় ১৪ দফায়।

জানুযারি থেকে এপ্রিল, পাঁচ মাস কানসাটে দফায় দফায় পুলিশের ধরপাকড়, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, গুলিবর্ষণ চলতে থাকে। বিদ্যুতের দাবিতে গ্রাহকসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। হরতাল, অবরোধ পালন করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তারপরও তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলনকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করে। এতে জনগণ আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বিএনপি জামায়াতের তৎকালীন সাংসদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি শাহজাহান আলী মিয়ার নির্দেশে অত্যাচার, নির্যাতন ও গুলি চালিয়ে ২০ জনকে হত্যা করা হয়, ঘরবাড়িতে চালানো হয় ব্যাপক লুটপাট। পুলিশি নির্যাতনে ঘর ছাড়েন শত শত পরিবার। কানসাট আন্দোলনে নিহতরা সকলেই ছিল নিরীহ জনগণ।

অবশেষে বিদ্যুতের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে সরকারের নতি স্বীকারের মধ্যদিয়ে। চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা সমঝোতায় বসেন বিদ্যুৎ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। ২০০৬ এর ১৬ এপ্রিল রাজশাহী সার্কিট হাউসে দু’পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ১৪ দফা সমঝোতা চুক্তি। কানসাটের জনগণ একে আজীবন ‘শোষকের বিরুদ্ধে জনতার জয়’ হিসেবে দেখবেন।

কিন্তু জনগণের রক্ত নেয়ার কলংক বিএনপি জামায়াতের পিছু ছাড়েনি, বরং তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার রাস্তাকে করেছে পিচ্ছিল। শেষমেশ ব্যাপক জনরোষ আর কোটি মানুষের অভিশাপ নিয়েই ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিলো তাদের।