আসন্ন নির্বাচন বনাম বিএনপির অভিযোগের ঝুড়ি

 

‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’ চিরায়ত বাংলার প্রচলিত একটি বাক্য। যার অর্থ দাঁড়ায় নিজের ভুল কাজ বা অপরাধ অন্যের দোষের মাধ্যমে ঢেকে রাখা। এর সাথে পুরোপুরি মিলে যায় দেশের রাজনৈতিক দল বিএনপির কর্মকাণ্ডের সাথে। গত এক দশক ধরে বিএনপি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বেশ দূরে আছে। দূরে বসে নানা কুটিল বুদ্ধি এঁটেছে বিএনপি। ক্ষমতায় থাকাকালীন টাকার নেশায় মত্ত থাকা বিএনপি বিভিন্ন উপায়ে করেছেন অর্থ আত্মসাৎ। দুদকের তদন্তে যখন সব বেরিয়ে আসে, তখন বেশিরভাগ নেতাকর্মীর জেলে যেতে হয়। এমনকি টাকার লোভ আটকে রাখতে না পেরে বিএনপির চেয়ারপারসন এখন কারাগারে।
দেখতে দেখতে দেশে চলে আসে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। দেশের মানুষ চায় সকলের অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। কিন্তু বিএনপি তা চায় না। তারা চায় নানারকম অজুহাতের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। দশম জাতীয় নির্বাচনেও অহেতুক অভিযোগের মাধ্যমে নির্বাচনে তারা অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে। শুধু তাই নয় নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তারা দাবি জানান যে পুনরায় নির্বাচনের তারিখ দেয়ার জন্য এবং এ নিয়ে দেশ জুড়ে চালায় তাণ্ডবলীলা। ক্ষমতার লোভে তারা জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা শুরু করে।
একাদশ জাতীয় সংসদেও তারা থেমে নেই তাদের অভিযোগ ছড়াতে। মূলত দেশবাসী তাদের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে এজন্য বিভিন্ন অজুহাতের আশ্রয় নিচ্ছে। বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ নিয়ে রণক্ষেত্র সৃষ্টি হয় রাজধানীর পল্টনে। এই দায়ভার তারা নিতে নারাজ। তারা ছড়াচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে উসকানি দিচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোথায় এই সংঘাত সৃষ্টি করেছে এর উত্তর দিতে পারছে না বিএনপি। নিজেদের প্রতিহিংসার জের ধরে মনোনয়নপত্র নিতে এসে লাশ হয় আবু বকর নামে এক প্রার্থী এবং অনায়াসে তারা এই অভিযোগ ছুড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের দিকে।

কথায় আছে এক মাঘে শীত যায় না। বিএনপি দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় দেশে বিরোধী দলও হতে পারেনি বিএনপি। এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও ছিল বহুদূরে। তারা জানে নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের জয়ী হওয়ার আশঙ্কা খুবই ক্ষীণ। এজন্যই তারা আওয়ামী লীগের নামে নানা রকম অভিযোগ ছড়িয়ে কেন্দ্রবিন্দুতে আসার চেষ্টা করছে এবং বানচাল করতে চাচ্ছে দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থাকে।