বিএনপির জালিয়াতি; এ আজ নতুন কি?

 

বিএনপির দলটির নাম মনে হলেই চোখের সামনে ভেসে আসে জঙ্গি-সন্ত্রাসের প্রশ্রয়দাতা একটি তথাকথিত রাজনৈতিক দলের চিত্র। তারা শুধু সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডেই পারদর্শী নয়! বিএনপির নেতাকর্মীদের সই জালিয়াতি, বিবৃতি জালিয়াতি, চেক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন জালিয়াতির রেকর্ড রয়েছে।

এইতো দিনকয়েক আগেই দলটির এক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সই নকল করে মনোনয়ন পাওয়ার মিথ্যা নাটক সাজালেন ।

দলটির জালিয়াতির ইতিহাস সুপ্রাচীন। জন্মলগ্ন থেকেই তারা তাদের জালিয়াতির রেকর্ড ধরে রেখেছে। বেশ কিছুদিন আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করেন। পরবর্তীতে এ খবর জনমহলে জানাজানি হলে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন জাহিদ এফ সর্দার সাদী ও মজিবুর রহমান মজুমদার। মজিবুর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক। জাহিদ সাদী বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ বার গ্রেপ্তার হয়ে প্রতিটি অপকর্মের দোষ স্বীকার করে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ভোগ করছেন। এ নিয়ে দলটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জেরার মুখেও পড়তে হয়।

এবার তৃণমূল পর্যায়ের একটি ঘটনায় আসা যাক, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম চান্দিনা উপজেলা সদরের আল-আমিন কামিল মাদ্রাসার সভাপতি পদে থাকাকালীন সময়ে ওই মাদ্রাসার চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ছয় লক্ষ ৫২ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। এ নিয়ে ২০১১ সালে মামলা হলে তিনি পুলিশি হেফাজতে তার অপকর্মের কথা স্বীকার করেন।

তাদের একটু ভিন্নধারার জালিয়াতির ঘটনার উল্লেখ করা যাক, ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি অমিত শাহ্ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন বলে জানানো হয়।

কিন্তু ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধান অমিত শাহ্ বাংলাদেশে কারো কাছে টেলিফোন করেননি। বিএনপির চেয়ারপারসনের অফিস থেকে দুইবার টেলিফোন করা হয়েছিল। কিন্তু উনার টেলিফোন লাইনটি নষ্ট থাকার কারণে কোনো কথা হয়নি। এরপর জানুয়ারির ৯ তারিখে আবারো বিবৃতির মাধ্যমে ফোনালাপের সত্যতা দাবি করে বিএনপি। ১০ই জানুয়ারি, অমিত শাহ্ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ফোনালাপের খবরটি অস্বীকার করে এটিকে গুজব বলে মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় সারাবিশ্বে বিএনপিসহ বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০১৭ সালে কানাডার আদালত যখন বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে তখন দলটির একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। সেখানে কানাডার ওই আদালত এবং সরকারকে হেয় করে বিভিন্ন কথা বলা হয়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল এবার একটু নাটুকে রুপে আবির্ভূত হন। তিনি দাবি করেন, ‘কে বা কারা আমার নামে কানাডার আদালতের রায় সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার স্বাক্ষর জাল করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভুয়া, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বিবৃতি পোস্ট করেছে’।

এবার বর্তমান প্রেক্ষাপটে আসা যাক, গত ২৫ নভেম্বর  ভিসা জালিয়াতি এবং ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় চার বাংলাদেশীর ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এদের মধ্যে ঝালকা‌ঠি-১ আসন থে‌কে বিএন‌পির শক্ত ম‌নোনয়নপ্রত্যাশী আবুল কালাম ওর‌ফে রেজাউল ক‌রিমও ছিলেন! যাকে চক্রের মূল হোতা হিসেবে আদাল‌তের রা‌য়ে উল্লেখ করা হয়।

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপির একজন মনোনয়ন প্রার্থী স্ক্যানিং করে দলটির মহাসচিবের স্বাক্ষরসহ জনগণের সামনে ভুয়া মনোনয়নপত্র  দাখিল করে। পরবর্তীতে দেখা যায়, ওই আসনে বিএনপি তাদের শরিকদল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।

উপরের ঘটনাগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিএনপির বিভিন্ন জালিয়াতির খবর জনগণের সামনে তাদের আসল রূপ তুলে ধরেছে।  বিএনপি এটাই বারবার প্রমাণ করতে চাচ্ছে যে, তাদের  নেতাকর্মীরা আগেও জালিয়াতি করেছে, এখনও করছে এমনকি ভবিষ্যতেও করবে।  আর করবেই বা না কেন বিএনপির জন্মই যে হয়েছিল জালিয়াতির মাধ্যমে।