অনলাইনে গুজব ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ?? দেখুন আসল সত্য!

 

অনলাইনে গুজব ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ?? দেখুন আসল সত্য!

দিন বদলের সনদ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করে তাঁর সরকার। শেখ হাসিনা সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ দেশ ডিজিটাল হওয়ার পথে। একদিকে শেখ হাসিনা সরকার সবার হাতে ইন্টারনেট ও মোবাইল তুলে দিয়ে দেশকে ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপি জামায়াত সমর্থকরা শেখ হাসিনার ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সমূহে শেখ হাসিনা ও তার সরকারবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত আছে।

মাঠের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন গুজব ছড়িয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সামাজিক মাধ্যমটিকে ভালভাবেই কাজে লাগাচ্ছে। দেশে-বিদেশে বসে জামায়াত-শিবির আর বিএনপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারবিরোধী নানা গুজব ছড়িয়েই চলেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউকে থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সাইট থেকে প্রতিনিয়ত ছড়ানো হচ্ছে সরকার বিরোধী নানা গুজব।

এসব গুজব ছড়ানোর জন্য তারা ব্যবহার করছে ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটউব, নিউজ পোর্টাল সহ আরো কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তাদের ছড়ানো এসব গুজব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিকট অতীতে যার একাধিক উদাহরণ রয়েছে।

নাসিরনগরে হামলা, কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর চাঁদে তাকে দেখা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে হামলা। এমন অনেক গুজব মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়েছিল। একই স্টাইলে আবার এমন সব গুজব ছড়ানো হচ্ছে। গুজব থেকে রেহাই পাইনি দেশের গণমাধ্যমও।

ফেসবুক পেজগুলোর মধ্যে ‘বাঁশেরকেল্লা’ অন্যতম। তবে অতিরিক্ত গুজব রটানোর কারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেয়। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাঁশেরকেল্লা বন্ধ করলেও এরকম আরো অসংখ্য পেজ ও গ্রুপ রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে যাচ্ছে।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো- বিডি পলিটিকো, আন্দোলন টিভি নিউজ, কে দিয়েছে?, থলের বিড়াল, তারেকের ঘোড়া, বখতিয়াতের ঘোড়া, বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ, অ্যাক্সিডেন্ট নিউজ, বাংলামেইল ৭১, ফাইট ফর সারভাইভার্স রাইট, ফাঁকিবাজ লিংক, আন্দোলন নিউজ, জাহান নিউজ, তাসনিম খলিল, দিগন্ত বার্তা, বাংলা ওয়েবসাইট, তারেক জিয়া সাইবার ফোর্স, জিয়া ডাইনেস্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী অনলাইন ফোরাম, বিএনপি এস এম, ডালিয়া লাকুড়িয়া ইত্যাদি। এরকম আরো অনেক ফেসবুক পেইজে টাকার বিনিময়ে বুস্টিং করে গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি জামায়াত।

 

তাছাড়া, জাহিদ এফ সরদার সাদী, আব্দুল মালিক, শামসুল আলম, ক্যাপ্টেন মারুফ রেজা রাজু, সোহেল রানাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ নামে অথবা বেনামে বিভিন্ন আইডি/পেজ/গ্রুপ খুলে সরকারের বিরুদ্ধে অনবরত কুৎসা রটনা বা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরাসরি তারেক জিয়া ও জামায়াতের একজন লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

  

এছাড়া বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করেও দেশবিরোধী বক্তব্য, মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ তৈরি করে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্ত করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- থলের বিড়াল, LOCAL BD, KTV বাংলা, A Tv, JK TV, SK TV, Freaky News, U-turn BD, দেশ বাংলা নিউজ টিভি, আন্দোলন টিভি ছাড়াও অসংখ্য ইউটিউব চ্যানেল। বিভিন্ন বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য ব্যবহার করে ভিডিও তৈরী করে এসব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে বিএনপি জামায়াত সমর্থক গোষ্ঠী।

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ উল্লেখিত ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে শুধু যে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে বিএনপি জামায়াত তাই নয়, বিভিন্ন দেশ বিরোধী অপপ্রচার করে বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করে চলেছে এই কুচক্রী মহল।

 

মূলত এসব পেজ থেকে যারা গুজব ছড়ায়, তাদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের টার্গেট সরকার, প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ। এসব আইডি থেকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকেও বিতর্কিত করে যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জামায়াত-শিবির বিএনপির হাত রয়েছে। নিজের পরিচয় লুকাতে অনেকে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াতে বিএনপি জামায়াতের মাসিক বাজেট প্রায় ২০ লক্ষ ডলার। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অর্থাৎ, ২০০৯ সাল থেকেই বিএনপি জামায়াত এ ধরণের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছে। সম্প্রতি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনলাইনে তাদের অপপ্রচার আরো বেড়েছে। অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে এসব গুজব বন্ধ করার দাবি সচেতন নাগরিক সমাজের।

আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে, মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে লন্ডনে বসে দেশের বিরুদ্ধে এমন বিষোদ্গার এবং অপপ্রচার রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। আই সি টি আইনের আওতায় এনে এমন ঘৃণ্য অপরাধীদের আশু বিচারের দাবি বিশ্লেষকসহ সর্ব মহলের।