টাকার বিনিময়ে নেত্রকোনা-২ আসনে ডা.আনোয়ারকে মনোনয়ন, আব্দুল বারীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

 

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকে বিএনপির বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান কর্তৃক অনুসন্ধানী টিমও গঠন করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নেত্রকোনা- ২ আসনে গুঞ্জন উঠেছে, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান টাকার বিনিময়ে ডা. আনোয়ারকে নমিনেশন দিয়েছেন। এর সঙ্গে জড়িত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীও। মনোনয়নের জন্য আব্দুল বারী ড্যানির কাছ থেকে টাকা নেয়া হলেও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ড. আনোয়ারকে। এতে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে মহাসচিব এবং যুগ্ম মহাসচিব সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেত্রকোনা- ২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা আব্দুল বারী ড্যানির সহচর অন্তত তিন জন কর্মী এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, মনোনয়ন যাতে নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যে তিন নেতাকেই আলাদা আলাদা করে ড্যানির তরফ থেকে উৎকোচ দেয়া হয়। এর পাশাপাশি ওই তিন নেতা- মির্জা ফখরুল, নজরুল ইসলাম খান এবং রিজভী ড্যানিকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তাও দেন। কিন্তু ড্যানির পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন ড. আনোয়ার।

ওই কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ভাই (ড্যানি) দলের একজন ত্যাগী নেতা। তাই তিনি এবারের নির্বাচনে দলের কাছ থেকে মনোনয়ন চাইলে নজরুল সাহেব ফখরুল সাহেব এবং রিজভী সাহেবকে দেখিয়ে দেন। পরে তাদের কাছে গেলে কয়েকদিনের সময় চান তারা। পরে ভাইকে (ড্যানি) পুনরায় ঢাকায় ডাকা হয়। ভাই গেলে কিছু টাকা-পয়সার ইঙ্গিত দেন তারা। পরে ভাই টাকাও দেন তাদের। এবং নিশ্চয়তাও দেয়া হয় যে, মনোনয়ন তিনিই পাবেন। এ পর্যন্তই। পরে দেখছি ভাইয়ের (ড্যানি) জায়গায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ড. আনোয়ারকে।

কতো টাকা লেনদেন হয়েছে তা জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘ঠিক কতো টাকা লেনদেন হয়েছে তা আমরা ঠিক জানি না। তবে টাকার পরিমাণ খুব নগণ্য নয়। ‘ এমন ঘটনায় মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল বারী ড্যানি বিএনপি হতে পদত্যাগ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ড. আনোয়ারের চেয়ে জনগণের কাছে আব্দুল বারী ড্যানি জনপ্রিয় হওয়ায় নির্বাচনে তার নমিনেশন না পাওয়াকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ প্রকাশ তৈরি হয়েছে। তারা এর জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর উপরে ব্যাপক ক্ষুব্ধ। তারা বলছে, যদি বিএনপি থেকে তাদের নেতা (আব্দুল বারী ড্যানি) পদত্যাগ করে তবে তারাও বিএনপির রাজনীতি করবে না। মনোনয়ন পাওয়া নেতা ড. আনোয়ারের জন্য অশনি সংকেত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।