মনিরামপুরে বিএনপির দুই হাজার নেতাকর্মীর পদত্যাগ

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (একাংশ) এর সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এরই মধ্যে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেনের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পদত্যাগকারী নেতা পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই।

এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মশিউর রহমান জানান, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট থেকে মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস মনোনয়ন পান। যদিও মনিরামপুরে তার কোনও প্রভাব নেই। তারপরও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিএনপি-জামায়াত একাট্টা হয়ে তাকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী করে। তবে স্থানীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো না থাকায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এরপর গেল ১০ বছর তিনি আর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেননি। তাছাড়া এই আসনে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল প্রার্থী হওয়ার তার জয়ের কোনও সম্ভবনাই দেখছে না জোটের প্রধান দল বিএনপি। তাই তারা দলে দলে পদত্যাগ করছেন। এদিকে ওয়াক্কাসের নামে নাশকতার চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি বর্তমান আত্মগোপনে রয়েছেন।

গতকাল রোববার পদত্যাগপত্র জমা দেয়া বিএনপির নেতাদের মধ্যে রয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আখতার হোসেন খান, আলাউদ্দিন আলা, সাধারণ সম্পাদক এস,এম, মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মকবুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক নিস্তার ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোতাহারুল ইসলাম রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক নবিরুজ্জামান আজাদ, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেন, একে আজাদ, কলেজ শাখার সভাপতি মহিবুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজিরসহ প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী।

পদত্যাগপত্র গ্রহণের সত্যতা স্বীকার করে শহীদ ইকবাল হোসেন জানান, গণবিচ্ছিন্ন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, পদত্যাগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এখনও কোনও কাগজপত্র তিনি হাতে পাননি।