বিএনপিকে দাঁত ভাঙ্গা জবাবের হুঁশিয়ারি তৈমুর আলম খন্দকারের

 

 

নিউজ ডেস্ক: একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতা তথা তারেক রহমানের মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে ধ্বসে গেছে দলটির নির্বাচনী কাঠামো ও কৌশল। এর প্রতিবাদে বঞ্চিত নেতা ও তাদের সমর্থকরা কার্যালয়ে তালা, ভাঙচুরের মতো বিক্ষুব্ধ ঘটনা ঘটাচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে দাঁত ভাঙ্গা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

শেষ মুহূর্তে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বেসরকারি টেলিভিশন ‘একাত্তর টিভি’র এক সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না। আমি মুখ খুলবো ৩০ ডিসেম্বরের পর (নির্বাচনের পর)।

এদিকে মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে বরাবরই দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বিত্তবানদের। এমন অভিযোগ এখন বিএনপির ওপেন সিক্রেট। সেই সূত্র ধরে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আবারও প্রমাণ হল, দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম কারাবরণ-সব কিছুই মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা নয়। দলের জন্য যতবার জেলে গেছি, ততবার বিএনপির আর কোন নেতা কারাবরণ করেছে কিনা তা খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এর আগেও তার সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে জানিয়ে তৈমুর আলম বলেন, মনোনয়নের জন্য আমি লালায়িত নই। এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট শুরু হওয়ার মাত্র ৮ ঘণ্টা আগে আমাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলা হয়। আমি বিনা বাক্য ব্যয়ে নির্বাচনের আগের রাত ১২টায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। তিনি দলের জন্য ত্যাগের মূল না পাওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে কাজী মনিরুজ্জামান মনিরকে ৮ ডিসেম্বর বিকালে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থকরা। তার সমর্থকদের দাবি, সারা দেশে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। দলের জন্য তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন। তার এক ভাইকে খুন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট শুরু হওয়ার আট ঘণ্টা আগে তাকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। এর পরও প্রায় ৩০ হাজার ভোট পান তিনি। দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ এ নেতার মনোনয়ন শেষ মুহূর্তে কেড়ে নেয়ায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতে হামলা করেছেন মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা।

এমন প্রেক্ষাপটে এইচপি ওয়াজিওল্লাহ নামে বিএনপির এক সমর্থক বলেন, হঠাৎ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কাসেমি নামে এক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাকে এলাকার কেউই চিনে না। এ প্রার্থী দেশের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কী করে জিতবে? যদি দলে এরকমই হয় তবে আমরা দল ছাড়তে বাধ্য হবো। এসময় তিনি বিএনপিকে রাজনৈতিক দল নয় বরং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।