গর্বের সেনাবাহিনীই কেন তাদের লক্ষ্যবস্তু!

 

এর আগেও পাকিস্তানপন্থী একটি দলের নেত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বারবার বিতর্কিত করতে চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের আস্থার আশ্রয়স্থল সেনাবাহিনীকে ‘অকৃতজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যায়িত করার দুঃসাহসও দেখান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বেচ্ছায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা এই নেত্রী।

বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায় থেকেই একের পর এক অযাচিত মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে গর্বের সেনাবাহিনীর দিকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কৌশলে ছড়ানো হয় বিদ্বেষ। সেনাবাহিনীর বিপক্ষে একের পর এক অযাচিত, উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসলে কী হাসিল করতে চান তারা!

তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার। দেশের নিরাপত্তা ও শান্তির প্রতীক এই বাহিনীকে যেকোনো মূল্যে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চান তারা।
এইতো কিছুদিন আগেও, গত ৯ অক্টোবরে স্বঘোষিত সুশীল, বিএনপিপন্থী তথাকথিত বুদ্ধিজীবী জাফরউল্লাহ সেনাপ্রধানকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। এতে সারাদেশে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। লাইভ টক শোতে একটি দেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে এরকম নোংরা মন্তব্য করা কি মানসিক ভাবে সুস্থ কোনো ব্যক্তির পক্ষে করা সম্ভব, সেটিই আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়।
সেনা সদর দফতর থেকেও বিবৃতির মাধ্যমে জাফরউল্লাহর মিথ্যাচারকে জাতির সামনে তুলে ধরা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন জাফরউল্লাহ। কিন্তু তার স্বভাব বদলায়নি।

পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে, বিএনপি-জামায়াতের মদদে তিনি আবারও সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টায় নেমেছেন। গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি সেনাবাহিনীকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী সদস্যদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
জাফরউল্লাহ সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মনে রাইখেন আপনাদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ হইয়া যাইবে। একেকজন সাত থেকে আট লাখ টাকা, ২০ লাখ টাকা আনেন, সেই সুযোগ-সুবিধা চলে যাবে।’

এছাড়াও তিনি সেনাবাহিনীকে কখন মাঠে নামাতে হবে, কী কী করতে হবে, সে সম্পর্কেও নসিহত দেন। জাফরউল্লাহর এরূপ মন্তব্যকে বিশ্লেষকেরা দেখছেন ‘একজন উন্মাদের হঠকারী মন্তব্য হিসেবে’। গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেও দেখছেন।

একজন সামরিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘একটি দেশের সামরিক বাহিনী নিয়ে একজন বেসামরিক লোকের এরকম উদ্ভট মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। সেনাবাহিনী কোন দলের প্রেসক্রিপশনে চলে না। বিশ্বে বাংলাদেশকে তারা একটি সম্মানের স্থানে নিয়ে গিয়েছে। একজন সেনা সদস্য দেশের প্রয়োজনে যেকোনো সময়ে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টাকার জন্য মিশনে যায় না, বাংলাদেশের সম্মানকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নেয়ার জন্যই মিশনে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত অসংখ্য মিশনে অংশগ্রহণ করে দেশকে নিয়ে গেছেন অন্যরকম এক সম্মানের জায়গায়। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শান্তির পাতাকা উড়াতেই জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে অংশগ্রহণ করে সেনাবাহিনী। মিশনে গিয়ে বাংলাদেশের সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের অসংখ্য সেনা অফিসার ও সদস্য। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী বারবার তাদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিয়ে এসেছে। দেশে যখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা সমুন্নত রয়েছে, ঠিক তখন জাফরউল্লাহর এরূপ মন্তব্যকে ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ। তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

জাফরউল্লাহর একের পর এক অযাচিত মন্তব্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে জনসাধারণের মাঝেও। একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবী রাশেদুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীকে নিয়ে তাদের এত মাথাব্যাথা কেন! সেনাবাহিনী কী রাজনীতি করে! আমাদের সেনাবাহিনী যেখানে সারাবিশ্বে স্বীয় কর্মে রোল মডেল, সেখানে এদেশের কিছু কীটতুল্য রাজনীতিবিদ বারবার তাদের বিতর্কিত করতে চাচ্ছেন। দেশবাসী তাদের আস্থার সেনাবাহিনীকে নিয়ে এসব ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড আর দেখতে চায় না’।