রক্ষিতা জামায়াত ও পল্টি কামাল সমাচার

 

 

”না আমি আসিনি
ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রাচীন পাতা ফুঁড়ে,
দুর্বাশাও নই,
তবু আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে
অভিশাপ দিচ্ছি।

আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক
কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে
মগজের কোষে কোষে যারা
পুঁতেছিল আমাদেরই আপন জনেরই লাশ
দগ্ধ, রক্তাপ্লুত
যারা গণহত্যা করেছে
শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে
আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু
সেই সব পশুদের।

নাগরিক কবি শামসুর রাহমান এভাবেই তীব্র ঘৃণা জানিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের প্রতি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের এদেশীয় দোসরেরা যে হায়েনাসুলভ ভূমিকা পালন করে, তা চিরঘৃণিত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা একে একে সকল যুদ্ধাপরাধীকে আইনের আওতায় আনছেন। দেশ হচ্ছে কলংকমুক্ত। দেশে-বিদেশের বিভিন্ন চাপ উপেক্ষা করে জাতিকে রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

তবুও থেমে নেই ষড়যন্ত্রকারীরা। দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ করতে মিশন অব্যাহত রাখে তারা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে চালাতে থাকে একের পর এক প্রোপাগান্ডা। অপপ্রচার চালাতে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করা হয়, নিয়োগ দেয়া হয় লবিস্টও। এতকিছু করেও সফল হতে পারেনি তারা।

এরপরেও যে জামায়াত আজও বাংলাদশের সংবিধান, পতাকা মানে না, তাদেরকে পাশে নিয়েই ধ্বংসের পথে চলতে থাকে বিএনপি। জামায়াতের অন্তরে যে আজও পাকিস্তান, তা সচেতন লোকমাত্রই জানেন। অজানা নেই বিএনপিরও। তবুও তারা ব্যবহার করতে থাকে জামায়াতকে। কখনো কখনো আবার জামায়াতের কৌশলে ধরাশয়ীও হয় তারা।

তবে জামায়াতকে ব্যবহারের ষোলকলা পূর্ণ হয় এবারের নির্বাচনী মৌসুমে। মুখে মুখে জামায়াতবিরোধী সুর তোলা কামাল-কাদের সিদ্দিকী-রব গং নির্লজ্জের মতো এসে ভীড়তে থাকে জামায়াতের পাশে।

তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিএনপি বা কামাল গং জামায়াতকে স্বীকার করতে রাজি নয়। এমনকি যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর হলেও বিএনপি ছিল চুপ।  তবে এর আগে খালেদা জিয়া কয়েকবার ইনিয়ে বিনিয়ে তাদের মুক্তি চান। জনরোষের ভয়ে সরাসরি চাওয়ার সাহস তার হয়নি।

কামাল-কাদের সিদ্দিকী-রব গংও সেই সাহস দেখাননি। ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পরেও তারা জামায়াত প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলছেন। অথচ জমায়াত তাদেরই সঙ্গী। এ হাস্যকর পরিস্থিতি দেখে জনগণ বলছে ‘জামায়াত তাহলে রক্ষিতা হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। দলটিকে এরা ব্যবহার করতে রাজি, কিন্তু জনসম্মুখে সম্পর্ক স্বীকার করতে রাজি নয়।

তবে এবার আর মুখোশটি রক্ষা করা হলো না কামাল হোসেনের। দিনভর দেশপ্রেম, গণতন্ত্র নিয়ে বুলি আওড়ানো কামাল বেশ নগ্নভাবেই উন্মোচিত করলেন স্বরূপ।

গতকাল ছিল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের মেধাবী, সূর্যসন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীরা। জামায়াত দলগতভাবেই অবস্থান নিয়েছিলো বাংলাদেশের বিপক্ষে, এখনও তাদের সেই অবস্থান অপরিবর্তিত।

গতকাল বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন কামাল-রব গংও। হাতে ফুলও ছিল, যা তারা শহীদ বেদীতে দিয়েছেন। তবে এর পরবর্তী ঘটনাবলীতে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের এই শ্রদ্ধা প্রদর্শন কি মন থেকে নাকি লোক দেখানো!

ফুল দিয়ে বেরিয়ে আসার পথে কামালের দেখা পান সংবাদকর্মীরা। সঙ্গত কারণেই তার কাছে তাদের কিছু প্রশ্ন ছিল। প্রতিবছরই থাকে, কামাল হোসেন উত্তরও দেন। জানান তার প্রত্যাশার কথা, আওড়ান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা আইনের শাসনের বুলি।

কিন্তু এবার ঘটলো ব্যতিক্রম। যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত শিবির নিয়ে প্রশ্ন করাতেই ক্ষেপে গেলেন তিনি। অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করলেন সাংবাদিকদের। দিলেন দেখে নেয়ার হুমকিও। হতভম্ব সাংবাদিকেরা তখন অনেকটাই বাকরুদ্ধ। তবে চুপ হননি কামাল। তিনি ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকেন, পেছন থেকে রবসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্যরাও কামালকে সমর্থন দিতে থাকেন। আস্কারা পেয়ে কামাল তখন বেপরোয়া। তিনি সাংবাদকদের ‘খামোশ,ছোকরা, চুপ থাকো’ ইত্যাদি নানান শব্দে আক্রমণ করতে থাকেন।

কামাল হোসেনর এরুপ আচরণ দেখে দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। কেউ কেউ বলছেন, এ যেন খালেদার জিয়ার সেই কুখ্যাত উক্তি ‘চুপ থাকো বেয়াদব কোথাকার’ এর পুরুষ সংস্করণ। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনীতির মাঠের রক্ষিতা জামায়াতের বিপক্ষে মুখ খুললে কামাল জামায়াতের হুমকিতে পড়তেন। এছাড়াও ক্ষমতার হিসেব-নিকেশও করেছেন তিনি। সব ভেবেই জাতির সামনে নিজের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।