দিলদারের গাড়িতে আসন বঞ্চিত ক্ষুব্ধ শরিক দলের হামলা

 

 

সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের কাছে দুটি আসন দাবি করেছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। তারা বিএনপিকে হুঁশিয়ারি করেছিল যে, সিলেট-৪ ও ৫ আসন জমিয়তকে ছেড়ে না দিলে তারা জেলার সবকটি আসনে দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ নিয়ে নির্বাচন করবে। মনোনয়ন বণ্টনের সময় জমিয়ত নেতারা বলেন, সিলেট-৪ (জৈন্তা-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসন ও সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন কওমি মাদ্রাসা অধ্যুষিত। এ দুটি আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় চার শতাধিক কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। অতীতেও এখান থেকে আলেম-ওলামারা বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাই আগামী নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে মাওলানা আতাউর রহমানকে এবং সিলেট-৫ আসনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে জোটের মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান জমিয়ত নেতারা।

কিন্তু দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পালাতক আসামী তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে বসে যে ধরণের লোভাতুর মনোনয়ন বাণিজ্যে করেছে, তাতে শরিকদের দাবি অপূর্ন থেকে যায় এবং সিলেট-৪ আসনটি দিলদার হোসেন সেলিম মনোনয়ন পায়। আর বৃহত্তম শরিক দলের পক্ষ থেকে এমন অপমান মেনে নিতে পারেনি সিলেট-৪ ও ৫ আসন দুটির ঘোর দাবি করা জমিয়েত।

বিএনপির তৃণমূলের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববার যখন সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমে প্রচারণা চালাচ্ছিল। তখন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা এলাকায় হঠাৎ জমিয়তের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে তার গাড়িবহরে পাথর ছুঁড়ে ভাঙচুর করে।

এ বিষয়ে দিলদার হোসেন সেলিম জানান, গণসংযোগ শেষে পাড়ুয়া এলাকায় এলে আমার গাড়িবহরে পাথর দিয়ে ঢিল ছোড়া হয়। একপর্যায়ে আমাকে বহনকারী গাড়িসহ তিনটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এ সময় আশপাশ এলাকার মানুষজন এগিয়ে এলে পাথর ছোঁড়া বন্ধ হয়।

কারা পাথর ছুঁড়েছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শাহ আরেফিন টিলা থেকে ভোলাগঞ্জবাজার যেতে দুটি প্রাইভেটকার ও তিনটি মাইক্রোবাস ছিল। এসব গাড়িতে পাথর ছোঁড়া হলে তিনটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এ সময় অন্ধকার থাকায় পাথর নিক্ষেপকারীদের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধ থেকে এই রকম হয়েছে বলে শুনেছি।’