যুদ্ধাপরাধী ও দুর্নীতিবাজ মিয়া গোলাম পরোয়ারকে ভোট দেবে না খুলনা-৫ আসনের ভোটাররা

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরোয়ার। বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে, এই আসনে একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী এবং দুর্নীতিবাজকে মনোনয়ন দেয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা। স্বাধীনতার মাসে পাকিস্তানপন্থী যুদ্ধাপরাধীকে ভোটে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়ায় বিএনপির উপর চরম ক্ষিপ্ত হয়েছে আসনের নবীন-প্রবীণ ভোটাররা। আর এর ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীকে ভোটের মাধ্যমে রুখে দেয়ারও প্রতিজ্ঞা করেছেন তারা।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের মনোনয়নে খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে তৎকালীন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মৃণাল বাহিনীর সরাসরি সহযোগিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মিয়া গোলাম পরোয়ার। ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকেই সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন গোলাম পরোয়ার। মিয়া গোলাম পরোয়ার যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। তার নাম রয়েছে একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকারদের তালিকায়। জানা গেছে, ৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে গোলাম পরোয়ার বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী বাঙালি ও তাদের ধনসম্পদের ওপর হায়েনার স্টাইলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গোলাম পরোয়ার পাক-হানাদারদের নিজ দায়িত্বে এলাকায় বসবাসের ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭১ সালে গোলাম পরোয়ার মুক্তিকামী বাঙালিদের তালিকা করে পাক হানাদারদের হাতে তুলে দেন। এক কথায় খুলনা অঞ্চলে তৎকালীন সময়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেন গোলাম পরোয়ার। স্বাধীনতা পরবর্তীতে সময়ে জামায়াতের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে খুলনা অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার ব্যাপক চেষ্টা চালান। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী মিয়া গোলাম পরোয়ার এখনও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সক্রিয়। ২০০১ সালের পর গোলাম পরোয়ারের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনীর আদলে খুলনা অঞ্চলে ‘জিহাদী পার্টি’ নামের একটি কুখ্যাত বাহিনী গঠন করে সংখ্যালঘু, গরীব মানুষদের ওপর একাত্তর স্টাইলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০০১ সালের পর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে লুটপাট, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের মাধ্যমে বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যান। বিশেষ করে গাড়ি বাণিজ্য, চরমপন্থী কানেকশন, ভাইদের সাথে নিয়ে জুট মিল ও ঘের দখল, বিভিন্ন সরকারি দফতরের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, কাজ পাইয়ে দিতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ক্ষেত্র বিশেষ ৫-১০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরোয়ার।

মিয়া গোলাম পরোয়ারের যুদ্ধাপরাধ ও সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফুলতলা বাজারের ষাটোর্ধ্ব আব্দুস সাত্তার বলেন, ভাবতেই ঘৃণা হয়, এই আসনে বিএনপি একজন যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারকে মনোনয়ন দিয়েছে। এমন ঘৃণ্য কাজের জন্য ফুলতলা-ডুমুরিয়া আসনের সাধারণ মানুষ বিএনপি তথা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে কোনদিন ক্ষমা করবে না। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি তারা কোনদিন মিয়া গোলাম পরোয়ারের পাকিস্তানপ্রীতি এবং চাটুকারিতা ভুলতে পারব না। গোলাম পরোয়ার নিজ এলাকার মুক্তিকামী মানুষদের ধরে ধরে পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই গোলাম পরোয়ার নাকি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। গোলাম পরোয়ারের মতো যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শুধু ঘৃণা ও অভিশাপ থাকবে আমাদের পক্ষ থেকে। সে কোনদিন এই আসন থেকে বিজয়ী হতে পারবে না। তাকে ভোট দিলে- দেশকে, মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করার সামিল হবে।