পরাজিত হলে বিএনপির নতুন ছক, বিদেশিদের সহায়তায় সরকার হটানোর লক্ষ্য স্থির তারেকের!

 

নিউজ ডেস্ক: পরাজয় অবশ্যম্ভাবী ভেবে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারেক রহমান। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলে বিদেশিদের সহায়তায় সরকার হটানোর লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। বিদেশিদের সহায়তা নেয়ার লক্ষ্যে জোর তৎপরতাও চালাচ্ছেন তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি এম এ মালিকের ঘনিষ্ঠ একজন নেতা।

ব্যক্তি নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মী বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন তারেক রহমান। এসময় তিনি ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনের সর্বশেষ হালচাল সম্বন্ধে নেতাদের কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য নেন। নেতাদের কাছ থেকে নির্বাচনী পরিস্থিতি শুনে নির্বাচনে জয় লাভের আশা হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরাজয়ের আশঙ্কায় যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ বিএনপি নেতাদেরকে নির্দেশ দেন তিনি। বিএনপি কোনভাবে যদি নির্বাচনে পরাজিত হয় তবে তাদের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আসার আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমর্থন পেতে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল, ড. ইউনুস, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, দৃক গ্যালারির শহীদুল আলমদের মত ব্যক্তিদের ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা মোতাবেক, জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি পরাজিত হয়ে জামায়াত-বিএনপি কর্মী ও আইএসআই’য়ের তত্ত্বাবধানে গণআন্দোলন নামে একটি আন্দোলন শুরু করবে। বিশ্বমিডিয়ার কাছে এই তথ্য পৌঁছে দিতে বিদেশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বিতর্কিত করা হবে বাংলাদেশ সরকারকে। আর সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হলে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।

তারেক রহমানের এমন পরিকল্পনায় সন্ত্রস্ত মনোভাব প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিএনপি তথা তারেক রহমানের এহেন পরিকল্পনা ২০১৪ সালের মত গভীর সঙ্কট তৈরি করতে পারে। যা জাতির জন্য অভিশাপ স্বরূপ।

এ প্রসঙ্গে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, সম্প্রতি আইএসআই’য়ের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের ১১টি বৈঠকের ঘটনা খবরে আসার পর এ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এবার নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের যে পরিকল্পনা তা পুরো জাতিকে গভীর সঙ্কটে ফেলবে। কোনভাবে যদি ২০১৪ সালের মত অবস্থা তৈরি হয় তবে দেশের অর্থনীতি আবারও ৫০ বছর পিছিয়ে যাবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। সুতরাং যেকোন মূল্যে এই পরিকল্পনাকে রুখে দেয়ার জন্য সরকারের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।