বিশ্লেষকদের মত: নতুন নতুন গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে

 

 

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক গুজব ছড়িয়ে একটি বিশেষ মহল স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মত প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, ছেলেধরার উপদ্রব চলছে- এমন নানা অপ্রীতিকর গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়ে তারা মূলত দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে বলেও মনে করেন তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নানা আতঙ্ক ছড়িয়ে দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টায় হয়তো বিএনপি-জামায়াত এই অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে গুজবকারীদের আইনের আওতায় আনারও জোর-তাগিদ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, গণপিটুনি, ধর্ষণ, বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়। এক স্থানে এমন ঘটনা ঘটলে বিভিন্ন জায়গায় পরপর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এসব বিএনপি-জামায়াতের নিখুঁত কাজের উদাহরণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক গিলানী নেওয়াজ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কোথাও কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধীকে পুলিশে দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। তবে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে বিএনপি-জামায়াত দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে এর নেপথ্যে কাজ করতে পারে বলে আমার সন্দেহ হয়।

গিলানী নেওয়াজের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক জারিফ হাসান বলেন, একযুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি। সরকারের জনপ্রিয়তার ভাটা নামাতে কয়েকদিন পর পর নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় বিএনপি জোট। অতীতেও ধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগানোর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন থেকে গুজব চাউর হয়েছে, পদ্মাসেতুতে মানুষের মাথা লাগবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কৌশলে এ মাথা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বেশকিছু জায়গা থেকে মানুষের কাটা মাথাও পাওয়া যায়। সেই গুজবের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে ছেলেধরা গুজবকে প্রতিষ্ঠা করতে কুচক্রী মহল নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে দেশের আইন শৃঙ্খলা বিনষ্টের পাঁয়তারা করছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও ব্যাপারে জোর প্রচেষ্টা চালাতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দেশের সচেতন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।