তারেকের জন্মদিন পালন নাকি বিএনপির আন্তঃচাঁদাবাজি?

 

২০ নভেম্বর তারেক জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে আবারো বিএনপির মাঝে শুরু হয়েছে চাঁদা বাণিজ্য। বিগত বছরের ন্যায় এবারো তারেক জিয়ার জন্মদিন জাঁকজমকপূর্ণ করে পালন করতে চায় মূল সংগঠন ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলো। কিন্তু দলটি ক্ষমতায় না থাকায় অকর্মণ্য আর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী নেতাদের বর্তমান অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। আর তাইতো নিজেদের মাঝেই সিন্ডিকেট করে কিছু অর্থকড়ি বগলদাবা করতে চায় এই পাতি নেতারা।

জানা যায়, তারেকের জন্মদিন পালনের জন্য বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে কেন্দ্রীয় বিএনপির কিছু নেতা। ছাত্রদলকে ব্যবহার করে ব্যবসায়ী নেতাদের লিখিত চিঠি পাঠায় তারা। তাতে নেতার জন্মদিন পালনের জন্যে বাধ্যতামূলক চাঁদা দাবি করা হয়। ব্যক্তিবেধে লাখ টাকা থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। চাঁদার টাকা না দিলে তারেক রহমানকে জানিয়ে দলীয়গত ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির একাধিক ব্যবসায়ী নেতা অভিযোগ জানান, ‘নিজের দেশ, দল এমনকি কথিত ‘মা’ কে জেলে রেখে, লন্ডনে পলাতক নেতার জন্মদিন পালনে বিএনপির এত বেশি আগ্রহের কারণ নিজেদের পকেট ভারী করা। মূলত ছাত্রদলের নবনির্বাচিত নেতারাই এতে অতিউৎসাহ দেখাচ্ছে। বর্তমানে বিএনপির অধিকাংশ নির্লোভী নেতারাই তারিকের তির্যক মন্তব্যে অতিষ্ঠ। ইতোমধ্যে দল ছেড়েছেন অনেকেই।

পদত্যাগী একজন বলেছেন ‘তারেক জিয়া দলে থাকলে বিএনপি করার কোন মানেই হয়না। ২০০৭ সালে বিএনপির বিপর্যয়ের জন্য যিনি প্রধান দায়ী তার নেতৃত্বে আর যাই হোক বিএনপিকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তারেকের নেতৃত্বে দল করা আর আত্মহত্যা করা সমান কথা । তারেক নিজেরটা ছাড়া আর কিছু বুঝেনা। নিজের মায়ের জন্য যার মায়া দরদ নাই, দেশের ও দলের জন্য তার মায়া আসবে কি করে?’

এমন অবস্থায় তারেকের জন্মদিন এমন ঘটা করে পালন করা এবং সেই জন্মদিন পালনের টাকা তোলার নাম করে দলের ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে বড় অংকের চাঁদা দাবি কতটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্ন ভাবিয়ে তুলছেন অনেককেই। সম্প্রতি বিএনপি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের ফান্ড দেওয়ার অন্যতম নেতা এম মোরশেদ খান অভিযোগ করেন, ‘তারেককে অর্থ দিতে দিতে তিনি ফতুর হয়ে গেছেন। তিনি আর দল করতে চান না।’  ঠিক তার একমাস পর তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ালেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির আরেক ব্যবসায়ী নেতা জানান ‘দলের পিছনে টাকা দিচ্ছি, সেটা এক ব্যাপার! কিন্তু এইভাবে চাঁদাবাজি আমাদের প্রতি অসম্মান।’