সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে আবারো ভাঙ্গনের পথে বিএনপি

দলের নেতাকর্মীদের বেয়াদবি বেড়ে গেছে বলে মনে করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীদের বেয়াদবি বন্ধ না হলে আন্দোলন গড়ে উঠবে না, দিন দিন দলে বেয়াদবদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে’। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একটা বিষয় এখানে এসে খেয়াল করলাম। আমাদের প্রবীণ নেতারাই আমাকে বললেন, আমাদের জুনিয়র নেতারা আধা ঘণ্টা করে বক্তব্য দিলেন আর সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেয়ার সময় পাচ্ছেন না। আমি বুঝাতে পারছি আপনাদের? এরা কত বেয়াদব!’

গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় জুনিয়রদের উপর রাগান্বিত হয়ে এইসব কথা বলেন তিনি।

বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির এক শোভাযাত্রার কথা উল্লেখ করে আব্বাস বলেন, ‘এর আগে আমরা একটা পরীক্ষা করেছিলাম। আমাদের মহাসচিব (মির্জা ফখরুল), খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ স্থায়ী কমিটির নেতারা সহ অনেকেই ছিলেন সেখানে। সেই পরীক্ষায়ও আমাদের জুনিয়র নেতারা ফেল করেছে। ট্রাকের মধ্যে আমাদের সামনে মাথা উঁচু করে তারা সব দাঁড়িয়ে আছে। আর আমরা সবাই নিচে দাঁড়িয়ে আছি। বেয়াদবির সীমা থাকা দরকার।’

এসময় বিএনপির জুনিয়র নেতাদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেকেই তৎক্ষণাৎ মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। এসময় ‘সিনিয়র নেতারা অক্ষম’ বলে মন্তব্য করেন অনেক জুনিয়র নেতারা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলে শৃঙ্খলাটা জরুরি। যেটি বর্তমান বিএনপিতে নেই বললেই চলে। এই কারণেই বিএনপির আজকের এই ভরাডুবি অবস্থা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত নভেম্বর মাসে একই কারণে দল ছাড়েন বিএনপির বেশকিছু সিনিয়র নেতাকর্মী। তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপিতে যাচ্ছেতাই ভাবে কথা বলেন এমনকি গালিগালাজও করেন সিনিয়র নেতাদের। অপরদিকে তারেকের জন্মদিন পালন উপলক্ষে সিনিয়র নেতাদের কাছে চাঁদা দাবী করেছিল যুবদল ও ছাত্রদল। ফলে সে সময় সিনিয়ররা ক্ষিপ হয়ে উঠেছিল তাদের প্রতি। বর্তমানে বিএনপির এই সিনিয়র-জুনিয়র কোন্দল দলটিকে ভাঙ্গনের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে বলে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।