বিএনপির ক্যালেন্ডারে ব্যর্থতার বছর ২০১৯

 

দেখতে দেখতে চলে যাচ্ছে আরেকটি বছর। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ববাসী। নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিগত বছরের পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলিয়ে নিচ্ছে সবাই। পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলিয়ে দেখা যায় বিগত বছরের ন্যায় ২০১৯ ও একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক বছর ছিল একসময়ের আলোচিত-সমালোচিত দল বিএনপির।

বিএনপির  ২০১৯ সাল শুরু হয়েছিল ভয়াবহ দুর্ভাগ্য দিয়ে। ঐক্যফ্রন্টের সাথে জোট করে একাদশ জাতীয়  নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাজিমাৎ করার স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু জনগণ দুর্নীতিবাজ ঐক্যফ্রন্টকে ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিহত করে। নিজেদের ভরাডুবির পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবিরও দায় নিতে হয় দলটিকে। মনোবল ভেঙে পড়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের। সেই মনোবল আর চাঙ্গা হয়নি সারা বছরেও।

এছাড়াও দেখা যায়, বছর জুড়ে খুব বড় কোন আন্দোলন তো করতেই পারেনি দলটি, বরং নিজেদের সমস্যা সামাল দিতে দিতেই বছর পার করেছে। এর মধ্যে পদত্যাগ করেছেন দলের সিনিয়র একাধিক নেতা। বিবাহিত ছাত্র নেতাদের আন্দোলনের ফলে দেশে বিদেশে হাসির পাত্র হতে হয়েছে এই রাজনৈতিক দলকে। বছরের মাঝামাঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন তথা ডাকসু নির্বাচনে বিএনপির মতোই ভরাডুবি হয়েছে ছাত্রদলের। ছাত্রদল থেকে মনোনয়ন পাওয়া কোনো সদস্যই নির্বাসনে জিততে পারে নাই। লন্ডনে অবস্থানরত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দেশে আন্দোলনের চেষ্টারত সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল আগে যেমন ছিল, তেমনই রয়েছে বছরজুড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুর্নীতি মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তির কোনো জন্যে কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারাটাই বিএনপির সবচাইতে বড় ব্যর্থতা। এর আগে প্রতি ঈদের আগে বিএনপি নেতারা ‘ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের’ হুমকি  দিতো। কালের পরিক্রমায় বিএনপির `ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন’ এর  হুমকি হয়ে ওঠে জনপ্রিয় ট্রল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আলোচিত বাক্যটিকে নিয়ে রঙ্গ-তামাশা হয় অনেক। তবে ২০১৯ সালে সেই হুমকিও দিতে দেখা যায়নি দলটির নেতাকর্মীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, ‘আগে তাও নেতারা আন্দোলনের ডাক দিত। এই বছর তাও করে নাই। নেতারা ব্যস্ত ছিল আনন্দ ফুর্তি আর ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে। নেত্রীর মুক্তি নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নাই!’

সকল বিষয় বিবেচনা করে খুব সহজেই বলা যায় ২০১৯ সাল ছিল বিএনপির আরও একটি ব্যর্থতার বছর। আর এই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দলটির নিঃশেষ যে খুব দ্রুতই হবে- সেটি অকপটে স্বীকার করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।