দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

 

দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে হাওর এবং খালবিলের মাছের প্রজাতি রক্ষায় প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এ ছাড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও বেশি করে গাছ লাগানোরও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একনেক চেয়ারপারসন হিসেবে এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বৈঠকে সংযুক্ত হন তিনি। অন্যান্য মন্ত্রী এবং সংশ্নিষ্ট সচিবরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের একনেক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে একনেক অডিটরিয়াম থেকে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তিসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধনী প্রসঙ্গে দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নদী-খাল-বিলের মাছ বিশেষ করে হাওরের চিংড়িসহ সব ধরনের মাছের জাত সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নদী-সাগরের বৈচিত্র্যপূূর্ণ প্রজাতির মাছ আহরণ করতে বলেছেন তিনি। খাদ্যগুণে নদী-সাগরের মাছে বেশ উপকারিতা রয়েছে। একইভাবে তিনি পরিবেশ রক্ষায় আরও বেশি পরিমাণে গাছ লাগানোর কথা বলেছেন।

একনেকে গতকাল মোট ছয়টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি নতুন। বাকি চারটি চলমান প্রকল্পের সংশোধনী। এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব ব্যয় দুই হাজার ৭১ কোটি টাকা। বাকি চার হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ। বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে আন্তঃজেলাসহ সব মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এর অংশ হিসেবেই সিলেট-তামাবিল সড়ক চার লেন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সারাদেশে খাস পুকুর খনন এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। ঘাট নির্মাণ করা হবে। বরেন্দ্র জেলাগুলো বাদে অন্যসব জেলার ৪০০ উপজেলায় এ কার্যক্রম চালানা হবে। বরেন্দ্র জেলাগুলোতে অন্য নামে একই কর্মসূচি চলছে বলে জানান মন্ত্রী। সারাদেশে পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- মতলব-মেঘনা-ধানগোদা বেড়িবাঁধ সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধনী), ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা এলাকার পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (প্রথম সংশোধনী) ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তিসেবা সম্প্রসারণের দ্বিতীয় সংশোধনী। পরিকল্পনামন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।