আস্থা সঞ্চয়পত্রে, বিনিয়োগের উত্তম জায়গা ডাকঘর

 

ডাকঘরও বিনিয়োগের উত্তম জায়গা

‘ডাকঘর’ শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ছোট্ট হলুদ খাম। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে হাতে লেখা চিঠিপত্রের চল প্রায় উঠে গেছে। ডাকপিয়ন আর দুয়ারে কড়া নাড়ে না। তবে রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র পড়া থাকলে চিঠির গুরুত্বের কথাটি ঠিকই কড়া নাড়ে মনে।

লাভ বেশি শেয়ারবাজারে, তবে...

বিনিয়োগের আরেকটি বিকল্প আছে ডাকঘরে। সেটি হচ্ছে ‘ডাক জীবন বিমা’। যুগপৎভাবে এটা বিমা পলিসি ও সঞ্চয় প্রকল্প।

চিঠিপত্রের কথা তাহলে থাক। বরং ডাকঘরের মাধ্যমে বিনিয়োগ কী করা যায়, আমরা এখন সেই প্রসঙ্গে আসতে পারি। ডাকঘরে রয়েছে দুটি সঞ্চয় কর্মসূচি (স্কিম)। এটা সঞ্চয়পত্র নয়, বরং সঞ্চয় আমানত। এই কর্মসূচির আওতায় একটি হচ্ছে সাধারণ হিসাব, অন্যটি মেয়াদি হিসাব। সাধারণ হিসাবে সুদ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, অন্যটিতে সুদ ১১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে টাকা বিনিয়োগ করা যায় একক নামে ১০ লাখ এবং যুগ্ম নামে ২০ লাখ।

বিনিয়োগের আরেকটি বিকল্প আছে ডাকঘরে। সেটি হচ্ছে ‘ডাক জীবন বিমা’। যুগপৎভাবে এটা বিমা পলিসি ও সঞ্চয় প্রকল্প। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনকল্যাণমূলক বিমা প্রকল্প হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ, পরিচালন ও বিপণন করে ডাক বিভাগ। বাংলাদেশ অঞ্চলে এই পলিসি চালু রয়েছে ১৩৬ বছর ধরে। ১৮৮৪ সালে ডাক বিভাগের রানারদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পলিসিটি চালু করা হলেও সাধারণ জনগণের জন্য তা উন্মুক্ত করা হয় ১৯৫৩ সালে।

ডাক জীবন বিমা পলিসি রয়েছে ছয় ধরনের। আজীবন বিমা, মেয়াদি বিমা, শিক্ষা বিমা, বিবাহ বিমা, যৌথ বিমা ও প্রতিরক্ষা বিমা। পলিসি শুরু হওয়ার দুই বছর পার হওয়ার পর মোট জমা টাকার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণও নেওয়া যায়। প্রিমিয়াম জমা দেওয়া যায় যেকোনো ডাকঘরে গিয়ে। আবার মেয়াদ শেষে যেকোনো ডাকঘর থেকেই টাকা তোলা যায়। এমনকি চাকরিজীবীদের বেতন থেকে কর্তনের মাধ্যমেও প্রিমিয়াম পরিশোধ করা যায়। অগ্রিম প্রিমিয়াম দিলে কিছু সুবিধাও পান গ্রাহকেরা। আবার কোনো কারণে বিমা পলিসি বাতিল হয়ে গেলে তা পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগও রয়েছে।

দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি, সামরিক অর্থাৎ যেকোনো নাগরিক যেকোনো ডাকঘরে গিয়ে ডাক জীবন বিমা পলিসির আওতায় আসতে পারেন। পলিসির কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই, অর্থাৎ যেকোনো অঙ্কের পলিসি করা যায়। এর তহবিলের সব অর্থ সরকার আপন জিম্মায় রাখে। আজীবন বিমার ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে বছরে বোনাস পাওয়া যায় প্রতি লাখে ৪ হাজার ২০০ টাকা। আর মেয়াদি বিমার ক্ষেত্রে বছরে প্রতি লাখে পাওয়া যায় ৩ হাজার ৩০০ টাকা বোনাস। এ বোনাসে কর রেয়াত রয়েছে।

ডাক জীবন বিমার কিস্তি জমা দেওয়া যায় মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে। নগদে যেমন দেওয়া যায়, মাসিক বেতন থেকে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিমাকারীর বয়স ও পলিসির মেয়াদ ভেদে কিস্তির হার ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন আজীবন বিমার ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৫৫ বছর বয়সের গ্রাহকেরা বিমা পলিসি গ্রহণ করতে পারবেন। আর বিমার পূর্ণতা পাবে ৫০,৫৫, ৬০ ও ৭০ বছর মেয়াদে। মেয়াদ শেষে গ্রাহক বা বিমাকারীর মৃত্যুর পর নমিনি বা উত্তরাধিকারী টাকা পাবেন।

১৯ বছর বয়সের একজন গ্রাহক ৫০ বছরের জন্যও পলিসি করতে পারেন। ৫,১০, ১৫,২০, ২৫,৩০, ৩৫ ও ৪০ বছর মেয়াদে পলিসির পূর্ণতা হবে। সে ক্ষেত্রে মাসে প্রতি হাজারের বিপরীতে মাত্র ২ টাকা ১০ পয়সা হারে প্রিমিয়াম দিতে হবে।