বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর উন্নয়নে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

 

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প নগরকে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য দ্রুততম সময়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ জন্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শিল্প নগরের দুটি জোনকে সবুজায়ন করার পাশাপাশি আধুনিক সেবা সংযুক্ত করা হবে।

দেশের বৃহত্তম এ ইজেডকে সবুজ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বের নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলোকে আকৃষ্ট করা এবং মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। একনেকের অনুমোদন পেলে চলতি মাসে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। চার বছরের এ প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী সমকালকে বলেন, বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে এরই মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন তারা। নতুন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে শিল্প নগরটি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি জোনের আধুনিক অবকাঠামো এবং পরিসেবা উন্নয়নের কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে উদ্যোক্তাদের মধ্যে জোন দুটির ভূমি বরাদ্দ দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজীতে ৩০ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন এ প্রকল্পের আওতায় সেখানকার দুটি জোনের প্রায় এক হাজার একর ভূমি উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক, টেলিকমিউনিকেশন, বিদ্যুৎ, পানির জন্য পৃথক নেটওয়ার্ক ও কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট (সিইটিপি) স্থাপন করা হবে। এক দরজায় সব সেবার জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস ও একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে প্রকল্পের আওতায়। এ ছাড়া এনভায়রনমেন্টাল ল্যাব ও মনিটরিং সিস্টেম এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট ও বর্জ্য নিস্কাশন সুবিধা তৈরির কাজ করা হবে। বিশ্বমানের সবুজ কারখানা স্থাপনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে এ শিল্প নগর।

সংশ্নিষ্টরা জানান, প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিন হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট বরাদ্দবিহীন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রকল্পটি। এটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় উপস্থাপন করা হবে।