বিধিনিষেধ মেনে চলুন : প্রধানমন্ত্রী

 

 

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লকডাউনসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সাত দিনের নিষেধাজ্ঞার (লকডাউন) মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা জানা যাবে আগামী বৃহস্পতিবার। পরিস্থিতি দেখে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যালোচনা করা হবে। দেখা যাক অবস্থা কী হয়।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। এ বিষয়ে বৈঠক শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘লকডাউনের নির্দেশনা সবাইকে কঠোরভাবে মানতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। করোনার সংক্রমণ রোধে মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। লকডাউন দেওয়ায় আগের চেয়ে মানুষের আনাগোনা কমেছে।’

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় সোমবার ভোর ৬টা থেকে আগামী সাত দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। এ দফায় আগামী ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত থাকবে লকডাউন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১৮ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫০ শতাংশ লোকবল দিয়ে সরকারি অফিস চালানোর কথা বলা হয়েছিল। লকডাউনের প্রথম দিনে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

গণপরিবহণ চলছে না। জরুরি কাজের জন্য সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকছে। লকডাউনের প্রথম দিনে ঢিলেঢালাভাব দেখা গেছে।

লকডাউনেও সচিবালয়ের সব দপ্তর খোলা-এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘দরকারি কাজ চালানোর জন্য যতটুকু দরকার ততটুকুই থাকবে। দেখি, সাত দিন পর কী অবস্থা হয়। বৃহস্পতিবার আমরা রিভিউ করব, ইনশাআল্লাহ। মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মাস্ক পরলে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে তো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’

মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোভিড-১৯ টিকার দ্বিতীয় ডোজ ৮ এপ্রিল থেকে দেওয়া শুরু হবে। দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে সমস্যা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। কোনো সমস্যা হবে না। টিকা যা আছে, সেসব দিতে দিতেই আরও টিকা চলে আসবে।’

‘লকডাউনের’ মধ্যে বইমেলা চলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, এ বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে যাতে তেলের দাম কমে, সে বিষয়ে এনবিআর চিন্তা করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সাত দিনের যে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়েছে তা লকডাউন নয়। নিষেধাজ্ঞা বলেছি, আমরা লকডাউন ঠিক বলি নাই। আমরা বলে দিয়েছি, যত কম লোক দিয়ে অফিস-আদালত চালানো যায়। দেখি, সাত দিন পর কী অবস্থা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার আবার সিদ্ধান্ত নেব।’

উন্নয়নের জন্য শান্তি আবশ্যক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য শান্তি আবশ্যক। আমরা লোকদের জড়িত করি যাতে তাদের সমর্থন শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সোমবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আফগানিস্তানের বিদায়ি রাষ্ট্রদূত আব্দুল কাইয়ুম মালিকজাদ সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের সম্পর্ককে চমৎকার আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করেছে। তিনি বলেন, আমরা ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এই পররাষ্ট্রনীতির অনুসারী। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আফগানিস্তানের উন্নয়নে তার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এনজিও ব্র্যাক আফগানিস্তানের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সেখানে কাজ করছে।

আফগান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। আফগান রাষ্ট্রদূত বলেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তিনি ঢাকায় আফগানিস্তানের দূতাবাসকে সহযোগিতা প্রদানের জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশেষ করে দু-দেশের মধ্যে বেসরকারি খাতে সহায়তা বাড়াতে পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। তিনি আফগানিস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাস পুনরায় চালু করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।