আজ থেকে চীনের সিনোফার্মের টিকা দেয়া শুরু

দেশে করোনা প্রতিরোধে চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির প্রয়োগ শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এই টিকা প্রথমে নিচ্ছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতা। রাজধানীর চার মেডিক্যাল কলেজের এক শিক্ষার্থীকে প্রথম দিনেই এই টিকা দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের এই টিকা দেয়ার পর তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এক সপ্তাহ পর শিক্ষার্থীদের গণহারে টিকা দেয়া শুরু হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর চার মেডিক্যাল কলেজের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে চীনের টিকা। অপর তিন প্রতিষ্ঠান হলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ। উদ্বোধনের দিন শিক্ষার্থীদের এই টিকা দেয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণে এক সপ্তাহ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। পরে আবার এই টিকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণহারে দেয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক টিটো মিঞা বলেন, আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আমাদের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে চীনের টিকা প্রয়োগ শুরু করবেন। প্রথম দিন ২৫৭ শিক্ষার্থীকে এই টিকা দেয়া হবে।

মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ অসীম কুমার নাথ বলেন, প্রথমদিনে সিনোফার্মের ১০২ ডোজ টিকা ইতোমধ্যে হাসপাতালে পৌঁছেছে। ৫১ শিক্ষার্থীকে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। টিকা দেয়ার পর তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

চীনের টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরুর জন্য এরই মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। চারটি মেডিক্যাল কলেজেই টিকাদান কেন্দ্র, অপেক্ষা ঘর, টিকা দেয়ার বুথ ও বিশ্রাম শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে জরুরী প্রয়োজনে টিকা গ্রহীতা ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তারা ২৫৭ জনের তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে প্রথমে সমতার নাম রয়েছে। দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছে হোসেন মোহাম্মাদ শাকিল। এ ছাড়া তৃতীয় নম্বরে তানভীর আহমদ জয়, চতুর্থ নম্বরে মাহাদি হাসান শুভ, পঞ্চম নম্বরে মারজিয়া জেসিকা হোসাইন ও ছয় নম্বর নাজমুল হকের নাম।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচাক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, সরকারী-বেসরকারী মেডিক্যাল ও ডেন্টালের শিক্ষার্থী, নার্সিং শিক্ষার্থী এবং মেডিক্যাল টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। বাংলাদেশে থাকা চীনের কিছু নাগরিককেও এই টিকা দেয়া হবে। সব মিলিয়ে টিকা দেয়া হবে ২ লাখের কম মানুষকে। বাকি টিকা কাদের দেয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জরুরউ ব্যবহারে সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। ১২ মে বাংলাদেশে এই টিকার ৫ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে পাঠায় চীন সরকার। আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠানোর কথা দিয়েছে বেজিং।

চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের অধীন বেজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস উদ্ভাবিত বিবিআইবিপি-করভি নামের দুই ডোজের টিকা জরুরী ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। বেজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস জানিয়েছে, তাদের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৭৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ কার্যকর।

চীন, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কটি দেশে এই টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের ফলাফলের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, এই টিকা ৮৬ শতাংশ কার্যকর।

প্রথম চীনের টিকা নিচ্ছেন সমতা ॥ দেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে চীনের সিনোফার্মের টিকা নিচ্ছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএসের ছাত্রী অনন্যা সালাম সমতা। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ২০১৬-১৭ সেশনের ছাত্রী। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। চীনের প্রথম টিকা নেয়ার বিষয়ে সমতা বলেন, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে আজ টিকা দেয়া হবে। আমি ক্লাস ক্যাম্পেনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। প্রথম টিকা নেয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের হয়ে চীনের টিকা প্রথম নিচ্ছি আমি। এটা অবশ্যই আনন্দের বিষয়। এ ছাড়া করোনা প্রতিরোধে সবাইকে বিনামূল্যে টিকার ব্যবস্থা করেছে সরকার। সেই টিকা সবাইকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমার মধ্যে তেমন কোন শঙ্কা-ভয় কাজ করছে না। কারণ, মানুষের সেবাই আমাদের কাজ। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। এ জন্য আমরা হাসপাতালেও যেতে পারছি না। সরকার চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত টিকা বিবিআইবিপি-করভি বিশেষ করে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ে আসছে। টিকা নেয়ার মধ্য দিয়ে আমরা আবার ক্লাসে ফিরতে পারব। সাধারণ মানুষকে কী বার্তা দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা নিয়ে শুরুতে যে ভয় ছিল, সেটা অনেক অংশে কেটে গেছে। মানুষ আগের মতো আর ভয় পায় না। সরকার সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে। আমি সবাইকে বলব, করোনা প্রতিরোধে টিকা নেয়ার কোন বিকল্প নেই।