নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত বিএনপি

 

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার দিন তারিখ শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের পর কারা হচ্ছে চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী তা জানা যাবে ৯ ডিসেম্বরে। কাজেই এখনও চলছে প্রার্থী যাচাই বাছাইয়ের কাজ।
সাধারণত মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করে থাকেন রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় বা যেসব কারণে প্রার্থীতা বাতিল হতে পারে সেগুলো হলো, প্রার্থীর নামে ফৌজদারি মামলা থাকলে বা প্রার্থী যদি কোনো তথ্য গোপন করে, প্রার্থী অভিযুক্ত আসামী হলে বা ঋণ খেলাপি হলে। এছাড়াও প্রার্থীর সাধারণ তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও উল্লেখ করা আবশ্যক।

কিন্তু তদন্তেই ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে বিএনপির বিভিন্ন প্রার্থী। কারণ বিএনপির সিংহভাগ প্রার্থীরই রয়েছে বিশাল মামলা। শুধু তাই নয়, রয়েছে অবৈধ সম্পত্তিরও পাহাড়। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এগুলো সব বের হচ্ছে। যেন কেঁচো খুঁড়তেই বেরিয়ে আসছে সাপ। এগুলোর যথাযথ হিসাব চাওয়া হলে কেউই দিতে পারছে না এর সঠিক ও সমীকরণ মিলানোর মতো উত্তর। তাদের উত্তরে পাওয়া গেছে অনেক অপ্রাসঙ্গিকতা যেখানে রয়েছে অনেক ফাঁক ফোকর। এমনকি অবৈধ ভাবে টাকা আত্মসাৎ ও সম্পদ নির্মাণেরও অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এজন্যই মনোনয়ন প্রার্থীর তালিকা থেকে বাদ পড়ছে অনেকেরই নাম এবং দিন দিন এই বাদ পড়ার তালিকা ভারী হচ্ছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের কুকর্মের জন্য বাদ পড়ছে মনোনয়ন তালিকা থেকে। কিন্তু এই সত্যতা মানতে নারাজ বিএনপি। কথায় আছে, সত্য সর্বদাই তিতা। এজন্যই বিএনপি তিতা থেকে বিরত থেকে তিতা ছড়াতে চাচ্ছে অন্যদিকে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের দিকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে যা যা করা দরকার তার সবই করছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ বার বার বলেছে যে সবার অংশগ্রহণেই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন এবং এজন্য কয়েকবার তারা সংলাপের জন্য বললেও আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দেয়নি বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থাৎ গায়েবী মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন মানুষকে অযথা হয়রানি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আর তা জেনে শুনে কেনই বা আওয়ামী লীগ এই কাজ করবে?
বিএনপির নেতাকর্মীরা টাকা আত্মসাতের সময়, অবৈধ সম্পদ করার সময় তখন দুহাত দিয়ে করে। যখন দুদক এর হিসাব বা জবাবদিহিতা করার জন্য ডাক দেয়া হয় তখনই দোষ হয় আওয়ামী লীগের। আর দিন দিন বিএনপির নির্বাচন বর্জন করার পাল্লা ভারী হচ্ছে। কারণ দিন দিন দুর্নীতি, ভুল তথ্য প্রদান, অবৈধ সম্পদ আহরণের ফলে মনোনয়নপত্র থেকে বাতিল হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন মীর নাসির, আমানউল্লাহ আমান, মোর্শেদ খানসহ বিএনপির সব হেভিওয়েট প্রার্থীরা। বিএনপির তৃণমূলকে নির্বাচনের জন্য রাজি করানো হয়েছিল এই বলে যে, বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য এই নির্বাচন। বিএনপির তৃণমূল আশা করেছিল যে, এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত হয়তো বেগম জিয়া অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু বেগম জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর বিএনপির মাঠ পর্যায় থেকে নির্বাচন বর্জনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

বর্তমানে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে অন্তঃকোন্দল। এখন দেখার বিষয় এই অন্তঃকোন্দল কতদূর গড়ায় এবং মনোনয়নের তালিকায় থাকে কয়জন প্রার্থী।