নিরাপত্তাহীনতার নাটক সাজিয়ে ইসিকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছেন হাফিজ

 

নিউজ ডেস্ক: নিরাপত্তাহীনতার নাটক সাজিয়ে ইসিকে তথা সরকারকে বিব্রত করতে ভোলা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তৎপরতা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, ১২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবীর রিজভীর সাথে একান্ত বৈঠকে বসেন মেজর (অব.) হাফিজ। সেখানে ভোলা-৩ আসনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিভিন্ন কলা-কৌশল সম্পর্কে মেজর (অব.) হাফিজ শীর্ষ এই দুই নেতার সাথে কথা বলেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে মেজর (অব.) হাফিজ ইসিকে বিব্রত করার জন্য লঞ্চে আক্রমণ করার নাটক মঞ্চস্থ করবেন বলে মির্জা ফখরুলের অনুমতি প্রত্যাশা করেন। এসময় দলটির যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজকে দলের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে নিশ্চয়তা দেন। তবে মির্জা ফখরুল মেজর (অব.) হাফিজকে লঞ্চে আক্রমণ করার নাটক বাস্তবায়নে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বনের জন্য পরামর্শ দেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর রাতে ওই বৈঠক শেষ হবার পর মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদরঘাটে তাসরিফ-৪ নামের লঞ্চে করে নির্বাচনী এলাকা ভোলার লালমোহনে যাওয়ার নাটকটি করতে সেখানে উপস্থিত হন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সদরঘাটে পৌঁছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিয়ে লঞ্চটিকে মাঝ নদীতে নিয়ে ৪০টি কেবিন ভাঙচুর এবং বিএনপি কর্মীদের মারধর করার নাটকটি সাজান। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে কমিশনার শাহাদত হোসেন চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগের পর একটি সংবাদ সম্মেলন করে মেজর (অব.) হাফিজ নিরাপত্তাহীনতার মুখে জীবন নিয়ে সদরঘাট থেকে ফিরে আসার কথা জানান।

এ প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভোলা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর আগে এমপি ছিলেন। তিনি তার নিজ এলাকায় যেতে পারছেন না এটা বিশ্বাসযোগ্য না। তাহলে এতদিন তিনি কী রাজনীতি করলেন। জনপ্রিয়তা না থাকলে আমাদের বললেই আমরা ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিকল্প প্রার্থী দিয়ে দিতাম।

অপরদিকে ইসি সূত্র অনুসন্ধান করে দেখেছে, মেজর (অব.) হাফিজ নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি সাজানো নাটক ছিল। ইসিকে বিব্রত আর নির্বাচনকে বিতর্কিত করতেই তিনি তাসরিফ-৪ নামের লঞ্চের নাটকটি সাজান। এমনকি এ বিষয়ে তিনি তার নেতা কর্মীদেরকে বাঁশের লাঠি বানিয়ে যেকোন পরিস্থিতিতে তা ব্যবহার করতে এবং আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেন বলে তার নির্বাচনী এলাকার একাধিক নেতা কর্মীর সাথে কথোপকথনে জানা যায়। মেজর (অব.) হাফিজের পূর্বের কর্মকাণ্ড থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় তিনি নির্বাচনে অংশ নেয়ার নামে ইসিকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।

তথ্যসূত্র বলছে, মেজর (অব.) হাফিজ তার নির্বাচনী এলাকায় একজন বহিরাগত হিসেবেই পরিচিত। হাফিজ উদ্দিন আহম্মদের পৈতৃক বাড়ি ভোলার লালমোহনে। তাই এই আসনের মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা কখনো ছিল না। এই আসনের মানুষের কাছে জনবিচ্ছিন্ন নেতা হিসেবেই মেজর (অব.) হাফিজ বেশি পরিচিত।অপরদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এক মুখে দুই কথা বলা বিএনপির নেতাদের খুব স্বাভাবিক আচরণ, যেহেতু নির্বাচন আসন্ন তাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকারকে তথা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে মেজর (অব.) হাফিজের নির্বাচনী তৎপরতা ও অরাজকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সরেজমিনে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন নেতা কর্মীদের লাঠিসোটা নিয়ে প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি নির্বাচনী কেন্দ্রসমূহ ঘেরাও করে রাখার পরিকল্পনা করছেন মর্মে এলাকার নেতাদের আদেশ দিয়েছেন। এলাকার জনৈক শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভোটে হেরে যাওয়ার মতো অবস্থা দেখা গেলে প্রয়োজনে প্রিসাইডিং অফিসারের চামড়া তুলে নেওয়া হবে। তিনি নির্বাচনকালীন সময়ে সবসময় ৪০০/৫০০ ক্যাডার সঙ্গে রাখবেন, যাতে এলাকায় ত্রাসের সঞ্চার হয় এবং ভোটারদের মাঝে ভয়-ভীতি কাজ করে। শিক্ষক হাবিবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলে মেজর হাফিজের এরূপ অপতৎপরতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাছাড়া, তার উপর হামলার যে কথিত অভিযোগ করা হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়ার ভিডিও ক্লিপ দেখে ঘটনার সাথে সরকারি দলের ন্যূনতম সম্পর্ক আছে বলে মনে হচ্ছে না। সার্বিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে মেজর হাফিজ তার নিজের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়ানোর জন্য নিজেই নিজের উপর হামলার সাজানো নাটক করছেন।

মেজর (অব) হাফিজের এরূপ আচরণ ও দ্বিচারী মনোভাবের বিষয়ে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘মেজর হাফিজের এরূপ দ্বিমুখী আচরণ প্রকাশ হয়ে পড়ায় তার দ্বিচারী মনোভাব প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে মেজর হাফিজ যদি নাটক সাজিয়ে থাকেন, তবে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি কাজ হিসেবে পরিগণিত হবে। এরূপ রাজনৈতিক মনোভাব দেশ ও জাতির জন্য কখনই শুভ হতে পারে না।’