ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করতে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জুনুর নির্দেশে চকরিয়ায় আ. লীগ কর্মীদের উপর হামলা, গুলিবর্ষণ

 

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোন উপায়ে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে সন্ত্রাসের আসল রূপ প্রকাশ করছে বিএনপি-জামায়াত। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রের খবরে জানা গেছে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করে তুলতে পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংঘর্ষ ও সংঘাতের রাজনীতিকে পুঁজি করে সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। সেই ষড়যন্ত্র ও হত্যা মিশনের অংশ হিসেবে এবার কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনুর নির্দেশে দলটির সমর্থকরা চকরিয়া, এলাকার আওয়ামী লীগের গিয়াস উদ্দিন মেম্বারসহ প্রায় ৭০-৮০ জনের উপর হামলা চালিয়েছে। জানা গেছে, এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ ভোটারদের আতঙ্কিত করে জোরপূর্বক ভোট আদায়ের অংশ হিসেবে জুনুর নির্দেশে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনে (চকরিয়া-পেকুয়া) সালাহউদ্দিন আহমেদ একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। স্বামীর অনুপস্থিতিতে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান হাসিনা আহমেদ। পলাতক সালাহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে উক্ত আসনে হাসিনা আহমেদকে সাহায্য করতে জুলফিকার আলী জুনুকে নির্বাচনে ত্রাস সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর জুনু অত্র আসনের আওয়ামী লীগ কর্মীদের তালিকা তৈরি করে টার্গেট অনুযায়ী বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের সহায়তায় হামলাটি চালিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের আভাস দিয়েছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপকূলীয় মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলাস্থ ইলিশিয়া-ঢেমুশিয়া ব্রিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিএনপির সশস্ত্র লোকজন। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলি ও হামলায় আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তন্মধ্যে গুলিবিদ্ধ ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্যসহ (মেম্বার) পাঁচ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা পাঁচ জনকে। তারা হলেন- উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য (মেম্বার) ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নাজেম উদ্দিন, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মিনার। এছাড়া আহত অন্যরা হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এই বিষয়ে ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বলেন, চকরিয়া-পেকুয়া-বাঁশখালী সড়ক হয়ে সকাল ১১টার দিকে পেকুয়া থেকে একটি কালো রংয়ের নোয়া গাড়ি ইলিশিয়া-ঢেমুশিয়া ব্রিজ এলাকায় আসে। এ সময় মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির নেতা ও ঢেমুশিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকুর নেতৃত্বে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে। হামলার সময় পেকুয়া উপজেলা যুবদল নেতা মুনতাজির কামরান জাদিদ মুকুটসহ বেশ কয়েকজন দলীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনুর নির্দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদের উপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জুনুকে এলাকায় সবাই অসৎ ও মতবলবাজ নেতা হিসেবেই চেনে। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য অতীতে তাকে জেলও খাটতে হয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মদদ দিয়েছেন জুনু। অনতিবিলম্বে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।