খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে ড. কামালের বক্তব্য বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে!

 

নিউজ ডেস্ক: গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন গত ২২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত এক গণশুনানির সমাপনী অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। যে মন্তব্য নিয়ে আইনবোদ্ধাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। খালেদা জিয়ার মুক্তি যে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় অসম্ভব সেটা জেনেও ড. কামাল এ ধরণের মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মুক্তি চেয়ে ড. কামাল সরাসরি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছেন বলেই মনে করছেন আইনপ্রণেতারা।

এ প্রসঙ্গে এক আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়ার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মুক্তি চেয়ে ড. কামাল তার দীর্ঘ আইনি জীবনের পথ চলাকে কলুষিত করেছেন। বিএনপিকে খুশি করতে তিনি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করার চেষ্টা করেছেন।

এই আইনজ্ঞের মতে, আপিলে নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে দোষী একজন ব্যক্তি। সুতরাং খালেদার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় ড. কামাল ও বিএনপির তরফ থেকে খালেদার মুক্তি দাবি দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করছে।

খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন সুপ্রীম কোর্টের এমন একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট মামলা রয়েছে ৩৭টি। এর মধ্যে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় হয়েছে। যেখানে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিশেষ আদালত। অপরদিকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭ বছর জেল এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন উচ্চ আদালত। তাই আপিলে যতক্ষণ পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্দোষ প্রমাণিত না হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবি করা আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানোর শামিল।

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখনও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি এমন মামলার সংখ্যাও রয়েছে অনেক। এর মধ্যে কিছু মামলায় চার্জশিট হলেও কয়েকটি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বকশীবাজারে স্থানান্তর হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে আরও তিনটি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে—গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলা। এছাড়া, দুটি পিটিশন মামলার মধ্যে নাশকতার মাধ্যমে সারাদেশে হত্যার অভিযোগে একটি, আর অন্যটি হচ্ছে খালেদা জিয়ার নিজের জন্মদিন পালন সংক্রান্ত মামলা। এসব ফৌজদারি মামলা থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়া বাহিরে অবস্থান করলে সাক্ষীরা সাক্ষ্য প্রদানে অনীহা দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হয়নি। আর দণ্ডিত আসামি খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুক্তির দাবি করা এটা অস্বাভাবিক কথা ছাড়া আর কিছু নয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জানুয়ারির শুরুতে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ১৪টি মামলার কার্যক্রম বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। স্থান সংকুলান ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করেই এটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আদালতে নাশকতার ৯টি মামলার শুনানি চলমান রয়েছে।