সারা দেশে মন্ত্রী-এমপিরা টিকা নেবেন একযোগে

 

দেশব্যাপী টিকাদান শুরুর প্রথম দিন সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি একযোগে প্রথম দিন টিকা নেবেন। তাদের টিকাদানের জন্য রাজধানীর মহাখালীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটসহ কয়েকটি হাসাপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তাদের পাশাপাশি অন্য সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধারাও এসব হাসপাতালে টিকা নিতে পারবেন।

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও প্রথম দিন টিকা নেবেন। এজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সব মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। সেদিন থেকে ঢাকাসহ দেশে ১৯ শ্রেণির করোনার সম্মুখযোদ্ধারা এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষ টিকা নিতে পারবেন। আগে প্রথম দফায় ৬০ লাখ মানুষের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও এখন প্রথম দফায় ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেবে সরকার। কারণ ইতিমধ্যেই দেশে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৭০ লাখ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২০ লাখ টিকা ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের কেনা ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকার মধ্যে ৫০ লাখ টিকা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, টিকার প্রতি মানুষকে আগ্রহী করতে এবং টিকার জন্য নিবন্ধন বাড়াতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রথম দিনই টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ সারা দেশে টিকা শুরুর তারিখ নির্ধারণ হলেও সে অনুপাতে মানুষের মধ্যে এখনো টিকা নিতে অতটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ২৭ জানুয়ারি থেকে টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হলেও গতকাল পর্র্যন্ত মাত্র ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। অথচ প্রথম দফায় ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রথম দিনই টিকা নিলে অন্য শ্রেণির মানুষ টিকা নিতে ও টিকার নিবন্ধন করতে উৎসাহ পাবে।

অবশ্য মন্ত্রী-এমপিদের টিকা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোনো হাসপাতাল নির্দিষ্ট করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় নিজে গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে টিকা নিতে চেয়েছেন। তার সঙ্গে ওই হাসপাতালে টিকা নিতে তিনি অন্য মন্ত্রীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন। সেজন্যই চিন্তা করা হচ্ছে ওই হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে তাদের টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে এসব হাসপাতালে অগ্রাধিকার ক্যাটাগরির অন্য মানুষও টিকা নিতে পারবেন।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় দেশে করোনার টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হিসেবে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, অর্থনীতিবিদ ও উপাচার্যসহ অন্তত আটজন গুরুত্বপূর্ণ (ভিআইপি) ব্যক্তি টিকা নেন। এর আগের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভার্চুয়ালি টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রথম পাঁচজনকে টিকা নেওয়া দেখেন। পরে ওই হাসপাতালে আরও ২১ জন টিকা নেন। টিকাগ্রহণকারী কারও মধ্যে এখনো মারাত্মক বা জটিল কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব টিকাগ্রহীতা বলেছেন, তারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন, ন্যূনতম শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। এমনকি টিকা নেওয়ার পর তারা পুনরায় তাদের স্বাভাবিক কর্মকা- শুরু করেছেন। এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দেশের মানুষকে নির্দ্বিধায় করোনার টিকা নিতে আহ্বান জানান। তারা টিকাকে ঘিরে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ারও পরামর্শ দেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত দুদিন আগপর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধনে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না মানুষের। যদিও গতকাল থেকে নিবন্ধনের গতি কিছুটা বেড়েছে। তাই নিবন্ধন বাড়াতে ও টিকা নিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশব্যাপী টিকাদানের প্রথম দিন সরকারের মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিকা নেবেন। উনি সব মন্ত্রীকে আহ্বান করেছেন ওখানে নিতে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আলাদা কোনো কেন্দ্র করা হয়নি। ৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেবেন। উনি নিজের থেকেই গ্যাস্ট্রোলিভারে নিতে চেয়েছেন। তাই সেখানেই সব মন্ত্রী ও কর্মকর্তা টিকা নেবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারাও প্রথম দিনই টিকা নেবেন। তাদের নিবন্ধন করে টিকা দেওয়া হবে। তাদের তালিকা আছে। অসুবিধা হবে না।

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও অধিদপ্তরের এনসিডিসিআর বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় যেহেতু গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে টিকা নিতে চেয়েছেন এবং অন্য মন্ত্রীদেরও সেখানেই টিকা নিতে বলেছেন, তাই আমরা ভাবছি সেখানে তাদের জন্য টিকাদানের ব্যবস্থা করব। তবে কোনো বিশেষ কারও জন্য কোনো বিশেষ হাসপাতাল বা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়নি। ঢাকার সব সরকারি জেনারেল ও বিশেষায়িত হাসপাতালে টিকাদানের জন্য বুথ থাকবে। সেখানে সবাই টিকা নিতে পারবেন।

এর আগে গতকাল রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অবশ্য মন্ত্রীদের টিকার জন্য গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ক্যানসার হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন হবে। ঢাকায় প্রায় ৩০০টি স্থান থেকে টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন শ্রেণির জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল ঠিক করে দিয়েছে। যারা কোর্টের লোকজন, তারা যেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা দিতে পারেন। আবার সচিবরা আছেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আছেন, তাদের জন্যও হাসপাতাল ভাগ করে দেওয়া আছে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের কিছু মন্ত্রী, এমপিরা আছেন উনাদের আহ্বান করেছি যেন তারা যার যার এলাকায় টিকা নেন। এছাড়া তাদের জন্য গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল নির্ধারণ করেছি।

কোভ্যাক্সের টিকা আসছে এপ্রিল-মে মাসে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশ যে টিকা পাবে, তার প্রথম চালান আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে পৌঁছতে পারে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভেক্স থেকে ছয় কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়া যাবে। সেটিও আমরা আশা করছি এপ্রিল-মে মাস থেকে কিছু কিছু পাব। বছরজুড়েই পাব এবং দিতে থাকব। কাজেই কখন কত টিকা দিলাম সেই হিসাব এখনো দেওয়া ঠিক হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অনেক দেশ না পারলেও বাংলাদেশ ইতিমধ্যে টিকা নিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে আনা ৭০ লাখ টিকা সব জেলায় পৌঁছে গেছে। টিকা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে দেড় লাখের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন।

নিবন্ধনের গতি কিছুটা বেড়েছে : ২৭ জানুয়ারি থেকে টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হলেও গতকালের আগপর্যন্ত নিবন্ধনের গতি ছিল খুবই ধীর। তবে গতকাল থেকে গতি কিছুটা বেড়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগে নিবন্ধন একটু সেøা থাকলেও এখন তা বাড়ছে। আমি আজই (গতকাল) জানতে পারলাম প্রায় দেড় লাখ লোক এরই মধ্যে নিবন্ধন করে ফেলেছে। ইদানীং নিবন্ধন খুব বাড়ছে। আমরা অনুরোধ করব, আপনারা করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে আমরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১ লাখ ৮৬ হাজার নিবন্ধন হয়েছে। নিবন্ধন চলমান প্রক্রিয়া। সম্মুখসারির ১৯ শ্রেণির মানুষ নিবন্ধন করতে পারবেন এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যাদের বয়স ৫৫ বছরের বেশি তারা পারবেন। তার নিচে করতে পারবেন না। আইসিটিতে তালিকা যেতে হবে প্রতিষ্ঠান থেকে।

৩৫ লাখ টিকার জন্য ৩৫ লাখ নিবন্ধন দরকার। সেটা কি সময়ের মধ্যে হবে কি না সে ব্যাপারে এ কর্মকর্তা জানান, গতকাল এক লাখ হয়েছে। তার আগের দিন ছিল মাত্র ৮০ হাজার। গ্রাম পর্যায়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। গুগল প্লেতে অনুমতি পাওয়া যায়নি। তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ মোবাইলে অ্যাপস দিয়েও করা যাবে।

প্রথম দফায় টিকা পাবেন ৩৫ লাখ মানুষ : শুরুতে প্রথম মাসে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা কমিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন।

ঢাকার বাইরে নিবন্ধন বাড়াতে চেষ্টা চলছে : ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে টিকার জন্য নিবন্ধন বাড়াতে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জনরা। এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১০ হাজার ভায়েলে ১ লাখ ৪ হাজার টিকা এসেছে নোয়াখালী জেলার জন্য। নিবন্ধন প্রথম দিকে কম ছিল। এখন বেড়েছে। আমরা প্রত্যেক দপ্তরের প্রধানকে বলেছি তারা যেন তাদের লোকজনদের নিবন্ধন করায়। নিবন্ধনের জন্য আমরা একটা বুথ করেছি যাতে জনগণ নিবন্ধন করতে পারে। জেলা প্রশাসন থেকেও বুথ করেছি। আমাদের নিজেদের ৫২ হাজার লোককে টিকা দিতে হবে। এসব লোকজনকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। নিবন্ধনের ব্যাপারে প্রচার কিছুটা কম ছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয়ভীতি কাজ করছে। তবে ঢাকায় পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর যখন দেখা গেল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তেমন নেই, তখন মানুষ কিছুটা উৎসাহবোধ করছে। জেলা শহরে চারটা বুথ, স্বাস্থ্য প্রশাসনের একটা ও জেলা প্রশাসনের তিনটা বুথ করেছি। নিবন্ধন মাত্র শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে বাড়বে। অ্যাপসে নিবন্ধন অনেকে বুঝতে পারছে না। আমাদের ফোন দিলে আমরা সহযোগিতা করছি।

রংপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. হিরণ¥য় কুমার রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, রংপুর জেলার জন্য ২ হাজার ৪০০ ভায়েল টিকা এসেছে। নিবন্ধন হচ্ছে ভালোমতেই। আমাদের সব বিভাগের লোকজনকে বলা হয়েছে। আমরা প্রচার করছি। তিন-চার দিন ধরে নিবন্ধনের প্রচার চলছে। সব জায়গায় নিবন্ধন হচ্ছে। সম্মুখসারির লোকজন করছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিবন্ধন একটু কম হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এসএম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি টিকাদান শুরু হবে। নিবন্ধনের প্রতি আগ্রহ কম না, কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ৫৫ বছরের বেশি যাদের বয়স তারা নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্য বয়সীরা এখন পারবেন না। বাকিরা সব সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধা। চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী, সরকারের বিভিন্ন লোকজন, মুক্তিযোদ্ধা এরকম ১৮ শ্রেণির মানুষ। এরা তো বুঝতেই পারেননি তাদের নিবন্ধন করতে হবে। তারা তালিকা জমা দিয়েছেন। গত পরশু এটা ঠিক করেছি। আজ (গতকাল) দুপুর পর্যন্ত দেড় লাখের ওপরে হয়েছে। শুক্র-শনিবার ব্যাপক আকারে হবে। গ্রামের মানুষকে বোঝাতে হবে। তাদের নানাভাবে সহায়তা করা হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দফায় ৩৫ লাখ টিকা দেব। যেহেতু ৭০ লাখ টিকা আছে। দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিশ্চিত করে দিতে বলা হচ্ছে। বিদেশ থেকে টিকা আসবে। দেরিও হতে পারে। ঢাকার সব সরকারি সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে টিকার বুথ থাকবে। সিটি করপোরেশনের মধ্যে উত্তরে ২০টি বুথ ও দক্ষিণে আপাতত একটি বুথে টিকা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দক্ষিণে বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, নিবন্ধন বাড়ানোর জন্য কমিউনিটি ক্লিনিককে বলে দিয়েছি। আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য সেবাকেন্দ্র উপজেলা-জেলা পর্যায়ে বলে দিয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য সহকারীদের বলে দিয়েছি। কেউ না বুঝলে তাকে বলে দেওয়া হয়েছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবীদের বলা হয়েছে নিবন্ধনে সহযোগিতা করার জন্য।

নিবন্ধনের ব্যাপারে এ কর্মকর্তা বলেন, সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধাদের প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তাদের তালিকা পাঠাতে হবে। সেখান থেকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে গেলে ব্যাকগ্রাউন্ড সাহায্য হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠান যদি না পাঠায় সে ক্ষেত্রে সম্মুখসারির হলেও নিবন্ধন করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে সম্মুখসারিদের কেউ যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিবন্ধন করতে চান, তাহলে তিনি অগ্রাধিকার বয়সভিত্তিক শ্রেণিতে পড়বেন। অর্থাৎ ৫৫ বছরের বেশি হলে প্রথম দফার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। এর নিচের বয়সী হলে পরের দফার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সম্মুখসারির হিসেবে পাবেন না। যারা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে তালিকা পাঠাতে হবে। টিকা সব জেলায় পৌঁছে গেছে। প্রথম দিন যেখানে নিবন্ধন বেশি হবে, সেখানে টিকা বেশি পাবে। আমাদের কাছেও হিসাব আছে। সে অনুযায়ী আমরা টিকা ভাগ করেছি। ঢাকায় চার লাখ টিকা পাবে। কুমিল্লায় দুই লাখ টিকা পাবে। এভাবেই টিকা গেছে।