দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় যোগাযোগে সাফল্য

 

দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় পল্লী যোগাযোগসহ নানামুখী উন্নয়ন অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে চলতি অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। এ অর্থের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণাঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় ৪ হাজার ১৩৬টি স্কিম বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ অবমুক্ত করা হয়েছে। যার ফলে অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে প্রায় ৪২ ভাগ ভৌত অবকাঠমোর কাজ শেষ হয়েছে। আর্থিক অগ্রগতিও প্রায় ৪০%।
নতুন প্রকল্প ছাড়াও অতীতে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজে এলজিইডি এ বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ৪২টি উপজেলাজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে এলজিইডি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসমূহের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সীমানা প্রাচীর ও গেট পর্যন্ত নির্মাণ করছে এলজিইডি। সড়ক ও সেতু ছাড়াও পল্লী এলাকার হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ ভূমিকার কথা জানিয়েছেন এলজিইডির বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান।
চলতি অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ১৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণাঞ্চলে ২ হাজার ৫১৭টি নতুন স্কিম ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ১৮২.১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫৪টি স্কিম বাস্তবায়ন কাজ করছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১৭১.৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো ১ হাজার ২৬৫টি স্কিম বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি।
অতীতে নদ-নদী বহুল ও কৃষিনির্ভর দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকায় পাকা রাস্তা এবং কংক্রিটের সেতু-কালভার্ট ছিল অনেকটাই স্বপ্নের মত। সে অবস্থার পরিবর্তন এসেছে ইতোমধ্যে। প্রায় ৫১ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ, ইউনিয়ন ও উপজেলা সড়ক দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। এসব সড়ক ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক সেতু ও কালভার্ট উন্নয়ন করেছে এলজিইডি। এছাড়াও প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ, ইউনিয়ন ও উপজেলা সড়কের উন্নয়ন হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং প্রায় ৪ হাজার সেতু ও কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সোয়া ৫শ’ কোটি টাকা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশালের সানুহার-ধামুড়া-সাতলা সড়কের ২৩ কিলোমিটারে ৫৬০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করেছে এলজিইডি। একই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশালের মুলাদী থেকে নাজিরপুর-মোল্লারহাট হয়ে কুতুবপুর পর্যন্ত সড়কের আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর ৪৩২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে হারতা বাজার সংলগ্ন কঁচা নদীর ওপর ২৮০ মিটার দীর্ঘ আরো একটি সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে উজিরপুর ও কোটালীপাড়ার বিল অঞ্চলের দুর্গম এলাকার সাথে মূল জনপদের দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহত্তর বরিশাল প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল মহানগরীর সাথে চরমোনাই-বুখাইনগর-বিশ্বাসেরহাট সড়কে কড়াইতলা সেতুটির নির্মাণ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জের গারুরিয়া-গোবিন্দপুর সড়কের তুলাতলা নদীর ওপর ১১টি স্প্যানে ৪৪০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলীয় পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত কর্মসূচি, বৃহত্তর বরিশাল জেলা গ্রামীণ যোগাযোগ ও হাট বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, জরুরি ঘূর্ণিঝড় পুনরুদ্ধার প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক ও জনপথ থেকে স্থানান্তরিত সড়ক প্রকল্প, উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, আরআইএমপি-এলসিএস প্রকল্প, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি, অংশগ্রহণমূলক ক্ষুদ্রকার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকায় প্রায় ৩০টি প্রকল্পের আওতায় কয়েক হাজার স্কিম বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি।
দক্ষিণাঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও হাজারখানেক ভ‚মিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে বাসস্থান নির্মাণ করে দিচ্ছে এলজিইডি। ঝালকাঠিতে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করেছে এলজিইডি।
পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘা নদীর ওপর ৩৬০ মিটার লম্বা পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নেছারাবাদের কালিগঙ্গা নদীর ওপর ৬শ’ মিটার লম্বা একটি সেতু নির্মাণে ১১৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। দ্বীপজেলা ভোলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সোয়া ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২টি সাইক্লোন শেল্টার কাম প্রাইমারি স্কুল নির্মাণ কাজও শেষ পর্যায়ে। বরগুনার বদনীখালী খালে ৭.৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করেছে এলজিইডি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্ধারমানিক নদীর ওপর ৬৭৭ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলাতে সড়ক এবং সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।