মশা নিধন অভিযানে গিয়ে খালও উদ্ধার করলেন মেয়র আতিক

মশা নিধন অভিযান পরিদর্শন করতে গিয়ে খালও উদ্ধার করলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ডিএনসিসির অঞ্চল ভিত্তিক সমন্বিত অভিযানে মোহাম্মদপুর রিং রোড, শিয়া মসজিদ এলাকা, রামচন্দ্রপুর খাল এবং তদসংলগ্ন এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিদর্শন করেন মেয়র আতিক।

বুধবার তৃতীয় দিনে বেলা ১২টায় মোহাম্মদপুরে পরিদর্শন শেষে মেয়র আতিক ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা দেন। শ্যামলী সিনেমা হলের বিপরীত দিকের গলি ধরে কিছুদূর এগুতেই দেখা গেল একটি রাস্তার মোড়ে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের কারণে গাড়ি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। আতিকুল ইসলাম গাড়ি থেকে নেমে অবৈধ দোকানগুলো পর্যবেক্ষণ করে অবিলম্বে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন।

সেখান থেকে আগারগাঁওয়ের দিকে যাওয়ার সময় চোখে পড়ে কল্যাণপুর ‘চ’ খাল। খালের দুইপাশের হাঁটার পথে এমনকি খালের উপরেও অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে অস্থায়ী দোকান। মেয়রের নির্দেশে এরকম কয়েকটি দোকান সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়া হয়।

খাল ধরে আগারগাঁও ৬০ ফুট রাস্তার সমাজকল্যাণ মোড়ের দিকে কিছুদূর এগুলেই একটি স্থানে খালের পাশে হাঁটার পথ আটকে যায়। ৪০ ফুট খালও হয়ে যায় মাত্র ২ ফুট। অবশিষ্ট ৩৮ ফুট খাল এবং ১৬ ফুট ওয়াকওয়ে মাটি দিয়ে ভরাট করে টিন দিয়ে ঘেরা। জায়গাটি আনুমানিক ১৫ কাঠা। মেয়রের কাছে এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে খাল এবং হাঁটার রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে টিনের বাউন্ডারি করা হয়। মেয়রের নির্দেশে সাথে সাথে টিনের বেড়া অপসারণ করা হয়। ভিতরে শাকসবজির আবাদ এবং ছোট আরো তিনটি টিনের ঘর। আতিকুল ইসলামের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে সকল অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

ঘটনাস্থলের কাছেই ছিল একটি মাটি খোড়ার যন্ত্র (এক্সকেভেটর)। আতিকুল ইসলামের সাথে সাথে এটি নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত দেন। তারপর শুরু হয় অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও হাঁটার জায়গা উদ্ধার অভিযান। বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ফুট খনন করা হয়।

এ সময় মেয়র আতিক বলেন, আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি এটা খালের জায়গা। জনৈক বেলায়েত এই জায়গাটি মাটি ভরাট করে এখানে দখল করেছে। এর ফলে এখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, কোমর পানি হয়। কারণ খাল দিয়ে পানি যেতে পারে না। আমরা এক্সকেভেটর দিয়ে এই খালটি এখনই খনন করছি। কিন্তু আমরা এই যে খাল দখল করছি, জনগণকে কষ্ট দিচ্ছি, এটি হতে দেওয়া যাবে না।

অভিযানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়েদুর রহমান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সলিমুল্লাহ সলু, আসিফ আহমেদ, সৈয়দ নূর হোসেন, ফোরকান হোসেন, হামিদা আক্তার মিতা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।