পদ্মাসেতু নিয়ে সততার প্রশ্নে আত্মসমর্পণ করিনি: প্রধানমন্ত্রী

পদ্মাসেতু নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সততার প্রশ্নে কোনো আপস করেননি বলে মন্তব্য করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, পদ্মাসেতু নিয়ে সেদিন অনেক ঝড়ঝাপটা, অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। কেবল আমি না, আমার ছোট বোন রেহানাসহ আমাদের অনেককেই এটা সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু আমরা কখনো মাথানত করিনি। সততার প্রশ্নে কারও কাছে আত্মসমর্পণ করিনি। কারণ সততাই হচ্ছে একমাত্র শক্তি আমাদের। এই সততা নিয়েই চলেছি।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রিফ্লেকশন ফর্ম অ্যালামনাই ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল শীর্ষক ই-সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে পদ্মাসেতুর কথা উল্লেখ করার কথা বলায় প্রধান বক্তা ড. রেহমান সোবহানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পদ্মাসেতুর কথাটা আপনি উল্লেখ করেছেন। আমি মনে করি এই একটি সিদ্ধান্ত সাহস করে নিয়েছিলাম। এ কারণে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভাবমূর্তির বড় পরিবর্তন এসেছে সারাবিশ্বে।

তিনি বলেন, একসময় এই মানসিকতা ছিল যে বাংলাদেশকে শুধু হাত পেতে চলতে হবে। আমরা নিজেরা কিছু করতে পারব না। সবসময় অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। কারও কাছে সহযোগিতা নিয়ে চলতে হবে। কিন্তু আমি জানি, এই সাহসটা আমি কোথা থেকে পেয়েছিলাম। পেয়েছিলাম আমার বাবার কাছ থেকে। বাবা রবীন্দ্রনাথের কবিতাটি বলতেন সবসময়— ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য উচ্চ যেথা শির…’। ঠিক এই কথাটি আমি সবসময় মনে রেখেছি। বাবার মুখেও সেই কথা শুনতাম। কখনো কোনো কিছুর ভয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার মধ্যে আমি নেই। যেটা করব, আমি সেটাই শুধু চিন্তা করি।

পদ্মাসেতুর জন্য অপমান সহ্য করতে হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার ছোট বোন রেহানাসহ আমাদের অনেককে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু সততার প্রশ্নে আপস করা যাবে না— বাবার কাছে সবসময় সেই শিক্ষা পেয়েছি। সে কারণেই আত্মবিশ্বাস ছিল। সেই জন্য বলেছিলাম, নিজের অর্থায়নে পদ্মাসেতু তৈরি করব। সে কারণেই আজ আমাদের দক্ষিণ বাংলার সঙ্গে আমরা সংযুক্ত হতে পেরেছি।