সোনালি আঁশে নতুন দিশা

ফিরেছে সোনালি আঁশের সুদিন। এই সোনালি আঁশেই নতুন দিশা দেখছেন কৃষক। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে পাটের বাম্পার ফল এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। পাটচাষে এবার কৃষক হাসে। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আট ইউনিয়নের কৃষকরা চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন। মনে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে মাঠে শ্রম দিয়েছেন তারা। কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রম এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট কাটা জাগ (পচানো) দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া এবং রোদে শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার আট ইউনিয়নে ১০ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকই ভারতীয় পাট আবাদ করেছেন। কিছু সংখ্যক কৃষক দেশীয় রবি-০১ জাতের পাট চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে ৯০ ভাগ পাট কাটা হয়েছে। এ বছর প্রতি একরে গড় ফলন হয়েছে ১৮ থেকে ২৪ মণ। প্রতিমণ পাট উৎপাদনে খরচ হয়েছে এক হাজার একশ’ থেকে দেড় হাজার টাকা। এরই মধ্যে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে পাটের বর্তমান বাজার মূল্য প্রতিমণ ৩ হাজার দুইশ’ থেকে তিন হাজার পাঁচশ’ টাকা পর্যন্ত।

উপজেলার রাজাপুর গ্রামের পাটচাষি ইকরামুল হোসেন বলেন, ‘আমি দেড় একর জমিতে পাট চাষ করেছি। এবার ফলন ভালো। বর্তমান বাজার মূল্যও আশানুরূপ। দরপতন না হলে কৃষক লাভবান হবেন এবং পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়বে।’

উপজেলা সদরের জাঙ্গালীয়া গ্রামের হারেজ শেখ বলেন, ‘এইবারডা পাট বালো অইচে। বালো দরও দেচ্চে, আমি খুশি।’

উপজেলা সদরের পাট ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে নতুন পাট মানভেদে প্রতিমণ ৩ হাজার দুইশ’ থেকে তিন হাজার পাঁচশ’ টাকা দরে ক্রয় করছি আমরা।’

উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুস সোবাহান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে পাটের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। দামও ভালো। দরপতন না হলে কৃষক লাভবান হবেন।’